1 Answers
উদ্দীপকে নির্দেশকৃত বিষয়টি হলো প্রকল্প। নিচে প্রকল্পের স্তরসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
যুক্তিবিদদের প্রদত্ত প্রকল্পের সংজ্ঞা ও উদাহরণ বিশ্লেষণ করলে এর মধ্যে চারটি স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। যথা (১) নিরীক্ষণ; (২) আনুমানিক ধারণা গঠন; (৩) সিদ্ধান্ত গ্রহণ; (৪) যাচাইকরণ।
১. নিরীক্ষণ: প্রকল্প গঠনের প্রথম স্তরটি হলো নিরীক্ষণ। প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো নিরীক্ষণের সময়েই আমরা বিভিন্ন সম্ভাবনার সম্মুখীন হই এবং এ সম্ভাবনার মধ্য থেকেই প্রকৃত কারণটি বেছে বের করার জন্য প্রকল্প গঠন করি। অতএব প্রকল্পের শুরু নিরীক্ষণ থেকেই সম্পন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, গাছ থেকে আপেলের মাটিতে পড়া নিরীক্ষণ করে তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়েই নিউটন প্রকল্প গঠন করেছিলেন, "মাটিতে নিশ্চয়ই কোনো শক্তি আছে, যা আপেলটিকে নিচের দিকে টেনে এনেছে।" ফলে এর দ্বারা স্পষ্ট যে, কোনো প্রকল্পের প্রাথমিক স্তরটি হবে নিরীক্ষণ।
২. আনুমানিক ধারণা গঠন: আনুমানিক ধারণা গঠন প্রক্রিয়া প্রকল্পের দ্বিতীয় স্তর। নিরীক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার পর, প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন যথার্থ হওয়া আবশ্যক। কেননা তথ্য নির্বাচন অপর্যাপ্ত হলে প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে অলীক হবে। তাই যথাসম্ভব পর্যাপ্ত তথ্য নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে আনুমানিক ধারণা গঠন করা হলে, সে আনুমানিক ধারণা যথার্থ প্রকল্পের মর্যাদা লাভ করে। অতএব প্রকল্পের দ্বিতীয় স্তরে যথার্থভাবে আনুমানিক ধারণা গঠনে সচেতন থাকা খুবই দরকার।
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণ: প্রকল্পের তৃতীয় স্তর হলো একটি সিদ্ধান্ত গঠন করা। কারণ কোনো ঘটনার ব্যাখ্যায় ঘটনাটি নিরীক্ষণ এবং নিরীক্ষিত অভিজ্ঞতা থেকে যখন আনুমানিক ধারণা গঠন করা হয়, তখন সে আনুমানিক ধারণা থেকে একটি সিদ্ধান্ত গঠন করতে হয়। কোনো সিদ্ধান্ত গঠন ছাড়া প্রকল্প যাচাই বা প্রমাণ করা যায় না।
৪. যাচাইকরণ : প্রকল্প গঠনের শেষ স্তরে আছে যাচাইকরণ। এ যাচাইকরণে দেখা হয় গঠিত প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে যদি বাস্তব তথ্যের সংগতি না থাকে তবে ঐ প্রকল্পটিকে বাতিল করে আরেক নতুম প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রকল্পটিকে প্রয়োগ করে দেখাতে হবে যে সেটি নির্ভুল কিনা।
অতএব বলা যায়, প্রকল্প গঠনের শুরু হয় নিরীক্ষণ দিয়ে এবং শেষ হয় যাচাইকরণের মাধ্যমে।