1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত বাবুল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সাদৃশ্যানুমান আরোহ। নিচে সাদৃশ্যানুমানের মূল্য বা গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-

প্রথমত : সাদৃশ্যমূলক অনুমানের সংখ্যা যত বেশি হয়, এর বিষয়সমূহের সংখ্যা তত বৃদ্ধি পায়, তবে সংখ্যা বা গাণিতিক অনুপাতে নয়। যেমন: একজন বাঙালি ভদ্রলোকের আচরণ, কথাবার্তা দেখে যদি অনুমান করি অন্য বাঙালি লোকেরাও ভদ্র, নম্র হবে। তবে সাদৃশ্যমূলক অনুমানটির সম্ভাব্যতার মাত্রা খুবই কম হবে। কিন্তু ১৫/২০ জন বাঙালি লোকের ভদ্র আচরণ দেখে যদি অনুমান করি, অন্য বাঙালি লোকেরাও ভদ্র ও নম্র হবে, তাহলে প্রথমটির তুলনায় দ্বিতীয় সিদ্ধান্তকে বেশি সম্ভাবনামূলক মনে হবে। তবে গাণিতিক বা সংখ্যানুপাতে ১৫/২০ গুণ সম্ভাব্যতা বাড়বে- এ কথা বলা যাবে না।

দ্বিতীয়ত: সাদৃশ্যমূলক বিষয়সমূহের গুরুত্ব ও সংখ্যা যত বেশি হবে, এর সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতা তত বৃদ্ধি পাবে। যেমন: মানুষের সাথে উদ্ভিদের যেসব মিল রয়েছে তা হলো মানুষের মতো উদ্ভিদের প্রাণ আছে, বৃদ্ধি আছে ও মৃত্যু আছে ইত্যাদি। কিন্তু মানুষের সাথে জীবজন্তুর এসব মিলসহ অতিরিক্ত যেসব সাদৃশ্য দেখা যায়, তা হলো- মানুষের মতো জীবজন্তুর মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, রক্তপ্রবাহ ইত্যাদি আছে। উভয় ক্ষেত্রে সাদৃশ্য বিচার করলে উদ্ভিদের চেয়ে জীবজন্তুর সাদৃশ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। সুতরাং মানুষের মতো উদ্ভিদ ব্যথা-বেদনা অনুভব করে- এই সাদৃশ্যমূলক অনুমানটির গুরুত্ব অনেক বেশি।

তৃতীয়ত : সাদৃশ্যের চেয়ে পার্থক্যমূলক বিষয়ের সংখ্যা যত কম হবে সাদৃশ্যমূলক অনুমান তত বেশি সম্ভাব্য হবে। কেননা পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে যেসব বৈসাদৃশ্য দেখি তার সংখ্যা পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মধ্যে যেসব বৈসাদৃশ্য দেখি, তার চেয়ে অনেক বেশি। কাজেই 'পৃথিবীর মতো চাঁদেও প্রাণের অস্তিত্ব আছে।'- এই সাদৃশ্যমূলক অনুমানের চেয়ে 'পৃথিবীর মতো মঙ্গল গ্রহেও প্রাণের অস্তিত্ব আছে।'- এই সাদৃশ্যমূলক অনুমানটি অনেক বেশি সম্ভাব্য। এক্ষেত্রে সাদৃশ্যের চেয়ে বৈসাদৃশ্যের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

চতুর্থত: দুটি বস্তুর মধ্যকার অজানা বিষয়গুলোর সংখ্যা জানা বিষয়গুলোর চেয়ে কম হলে সাদৃশ্যমূলক অনুমানটি বেশি সম্ভাব্য হবে।

উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, সাদৃশ্যানুমানের মূল্য বা গুরুত্ব অপরিসীম।

4 views

Related Questions