1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত মায়িশার কথা অবৈজ্ঞানিক আরোহ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। নিচে অবৈজ্ঞানিক আরোহের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হলো-
অবৈজ্ঞানিক আরোহ একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য স্থাপন করে: বৈজ্ঞানিক আরোহের মতো অবৈজ্ঞানিক আরোহ একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য স্থাপন করে। যেমন: 'সব কাক হয় কালো।'- এ যুক্তিবাক্যটির বিধেয় পদটি তার উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্তর্থের উপর আরোপিত হয়। অবৈজ্ঞানিক আরোহে আমরা দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কাকের রং সম্পর্কে যে ধারণা পাই, তারই ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, 'সব কাক হয় কালো।' এ বাক্যটি একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য।
অবৈজ্ঞানিক আরোহের ভিত্তি হলো অভিজ্ঞতা: অবৈজ্ঞানিক আরোহে আমরা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত অনুমান করি। যদি আমরা কোনো বিষয়ে সবসময় একইভাবে অভিজ্ঞতা পেতে থাকি এবং কখনোই তার বিরোধী কোনো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন না হই, তাহলে এ অনুকূল বিরোধহীন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঐ বিষয়ে আমরা একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত অনুমান করতে পারি। যেমন: ‘সব লাল রঙের ফুল সুগন্ধহীন।’
বাস্তব ঘটনার অভিজ্ঞতা: অবৈজ্ঞানিক আরোহ সবসময় বাস্তব ঘটনার অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতায় যদি কোনো বিষয়ে সবসময় একানুবর্তী অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়, তাহলে আমাদের জন্য সিদ্ধান্তের অনুমানের একটা ভিত্তি রচিত হয়। তখন বাস্তব ঘটনা পর্যবেক্ষণের সূত্র ধরে একানুবর্তী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত অনুমানে প্রয়াসী হই।
আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত: আরোহমূলক লম্ফ হচ্ছে আরোহের প্রাণ। এই আরোহমূলক লম্ফ অবৈজ্ঞানিক আরোহে সিদ্ধান্তের উপস্থিত থাকে। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌছার আগে সংশ্লিষ্ট সমুদয় দৃষ্টান্ত সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করা আমাদের পক্ষে নিতান্তই অসম্ভম্ব। জানা ঘটনা থেকে অজানায় উত্তরণের প্রক্রিয়াকে আরোহমূলক লম্ফ বলে।