1 Answers

উদ্দীপকে চয়ন যে অনুমান করেছে তা হলো পূর্ণাঙ্গ আরোহ। নিচে পূর্ণাঙ্গ আরোহ ব্যাখ্যা করা হলো-

মধ্যযুগীয় স্কলাস্টিক যুক্তিবিদগণ পূর্ণ গণনামূলক আরোহ বা পূর্ণাঙ্গ আরোহের সংজ্ঞায় বলেন, কোনো তথাকথিত সঠিক যুক্তিবাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষার পর সেই সার্বিক যুক্তিবাক্য স্থাপনের পদ্ধতিকে পূর্ণাঙ্গ বা পূর্ণ গণনামূলক আরোহ বলা হয়।

(Perfect induction is the establishment of a so- called universal propasition as the conclusion after examining all the particular instances included in it).

উদাহরণস্বরূপ (For example): একটি ঝুড়িতে রাখা ২০ কেজি আঙ্গুর দেখিয়ে বলা হলো, 'এই ঝুড়িতে সবগুলো আঙ্গুর টক (Sour)।' এখন এই সার্বিক বাক্যটির সত্যতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা স্বতন্ত্রভাবে এক-একটি করে আঙ্গুর খেয়ে দেখি যে সত্যিই ঝুড়ির প্রতিটি আঙ্গুর (Grapes) টক। এভাবে প্রতিটি বিশিষ্ট দৃষ্টান্ত পৃথকভাবে পরীক্ষা করার প্রেক্ষিতে আমরা উল্লেখিত সার্বিক বাক্যটি স্থাপন করতে সক্ষম হব যে, 'এই ঝুড়ির সবগুলো আঙ্গুর হয় টক।' আর এ পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করাকেই পূর্ণাঙ্গ আরোহ বা পূর্ণগণনামূলক আরোহ বলে।

পূর্ণাঙ্গ আরোহের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলেই আমরা এ আরোহের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য বুঝতে সক্ষম হই। যেমন- পূর্ণাঙ্গ আরোহের বেলায় প্রতিটি প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত স্বতন্ত্রভাবে বা পৃথকভাবে পরীক্ষা করতে হয়। তারপর দেখতে হয় যে, কোন কথা এদের প্রতিটি দৃষ্টান্ত সম্বন্ধে খাটে। এরপর এই স্বতন্ত্র দৃষ্টান্তগুলোকে যখন একটি সার্বিক বাক্যের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়, তখনই তা হয় পূর্ণাঙ্গ আরোহ। যেমন- মিরকাদি হাজী আমজাদ আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পাঁচজন দারোয়ান আছে এবং এই পাঁচজনের প্রত্যেকেই চশমা ব্যবহার করে। সুতরাং আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে উক্ত কলেজের সব দারোয়ান চশমা ব্যবহার করে। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে চয়ন যেহেতু প্রতিটি বই পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হয় তাই তা পূর্ণাঙ্গ আরোহ।

5 views

Related Questions