1 Answers
উদ্দীপকে হৃদয় 'মানুষ'কে যেভাবে ব্যক্ত করেছে তার মাধ্যমে অবান্তর লক্ষণ নামক বিধেয়কের পরিচয় পাওয়া যায়। যে গুণ বা গুণাবলি কোনো পদের জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ নয়; আবার জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও নয়, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। অর্থাৎ অবান্তর লক্ষণ কোনো পদের জাত্যর্থের অতিরিক্ত ভিন্ন ধরনের (জাত্যর্থের সাথে অনিবার্য সম্পর্কের বাইরে) কিছু গুণ বা বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। যেমন: মানুষ হলো শান্তিপ্রিয় জীব। এই যুক্তিবাক্যে 'শান্তিপ্রিয়' গুণটি মানুষের জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ নয়, জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃত নয়। এমনকি এই গুণটি সকল মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যও নয়। তাই এটি একটি অবান্তর লক্ষণ। তবে কোনো গুণ একটি শ্রেণি বা জাতির আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য হলেও তা যদি জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ না হয়, তা হলেও তাকে অবান্তর লক্ষণ বলা হবে। যেমন: মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন দ্বি-পদ জীব। এখানে 'দ্বি-পদ' গুণটি মানুষের ক্ষেত্রে সর্বজনীন হলেও এটি মানুষের জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ নয়; এমনকি জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবেও নিঃসৃত নয়। তাই দ্বি পদ গুণটি মানুষের অবান্তর লক্ষণ। তাই কোনো পদকে সংজ্ঞায়িত করতে হলে তার মৌলিক ও অপরিহার্য গুণের উল্লেখ করতে হবে, অন্যথায় সেটি ত্রুটিপূর্ণ হবে।