1 Answers
উদ্দীপকে উল্লেখিত আবিদ ও নাহিদের বক্তব্যে আরোহের যে দুটি ধারার প্রতিফলন ঘটেছে সে ধারা দুটি হলো পূর্ণাঙ্গ আরোহ এবং অবৈজ্ঞানিক আরোহ। নিচে তাদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ তথাকথিত কোনো সামান্য যুক্তিবাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বিশিষ্ট দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের পর সামান্য যুক্তিবাক্য স্থাপনের যে পদ্ধতি তাই হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ আরোহ। অপরদিকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর নির্ভর না করে শুধুমাত্র অবাধ অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার যে প্রক্রিয়া তাই হলো অবৈজ্ঞানিক আরোহ।
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহ অনুমান প্রক্রিয়ায় সার্বিক যুক্তিবাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি দৃষ্টান্তকে পর্যবেক্ষণ করার পর সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। অপরদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তরূপে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা যায়।
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহ প্রকৃত আরো নয়; কারণ এতে আরোহের কয়েকটি গুণের অনুপস্থিতি থাকে। অপরদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃত আরোহ। কারণ এতে আরোহের সবগুলো গুণ উপস্থিত থাকে।
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহ প্রক্রিয়ায় কার্যকারণের কোনো প্রয়োজন পড়ে না, তবে সবগুলো দৃষ্টান্ত গণনার মাধ্যমে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। অপরদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ নিয়মের উপর নির্ভরশীল না হলেও শুধু প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর আস্থা রেখে কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতা থেকে সরাসরি সিদ্ধান্তে গমন করা হয়।
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহে আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত; কারণ এ অনুমান প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত স্থাপনের পূর্বে সবগুলো দৃষ্টান্ত পরীক্ষা করে জানা থেকে অজানায় বা জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাত প্রক্রিয়ায় গমন করি না, কিছু থেকে সক্স কিছুতে গমন করি না, বরং সকল থেকে সকল কিছুতে গমন করি। অপরদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত থাকে এবং এ আরোহের মাধ্যমে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে উত্তরণ সম্ভব হয়। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত আবিদ ও নাহিদের বক্তব্যে আরোহের দুটি ধারা অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ আরোহ ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের তুলনামূলক বিশ্লেষণে বিভিন্ন ধরনের বিষয় ফুটে উঠেছে।