উদ্দীপকের পটভূমিতে অনুরূপ সত্যতার সাথে অবৈধ সিদ্ধান্তের উদাহরণ ও বিশ্লেষণ দাও। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকে পূর্ণ তার বড় ভাই রুহানের কাছে সহানুমানের সত্যতা ও বৈধতা নির্ণয়ের বিষয় সম্পর্কে জানতে চায়। রুহান বলে- 'অনেক সময় সহানুমানের আশ্রয়বাক্য দুটি ও সিদ্ধান্ত একই সাথে সত্য হওয়া সত্ত্বেও দেখা যায় যে, সহানুমানটি বৈধ হতে পারেনি।' এটা শুনে পূর্ণ অবাক হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সত্যতা ও বৈধতা দুটি আলাদা বিষয়। সত্যতা বলতে বোঝায় সেই চিন্তা বা ধারণা যা বাস্তবের সাথে মিল রয়েছে। এ চিন্তা বা ধারণা প্রকাশিত হয় আমাদের উক্তি বা বাক্যের মধ্য দিয়ে। কাজেই কোনো বাক্য বা বচনই শুধু সত্য বা মিথ্যা হতে পারে। অন্যদিকে বৈধতা বিষয়টি চিন্তার আকার বা নিয়মাবলির সাথে সম্পৃক্ত। বস্তুত চিন্তার নিয়ম সর্বদা যুক্তিবাক্য বা বচনের বেলায় প্রয়োগ করা হয় বলে স্বভাবতই বৈধতা যে অনুযায়ী অনুমান, যুক্তি এবং সহানুমান বা ন্যায় অনুমানের বৈশিষ্ট্য বলে গণ্য হয়। কাজেই বৈধতার প্রকৃতি অনুসারে, আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি চিন্তার নিয়মানুগ হয়ে যথাযথভাবে নিঃসৃত হলেই যুক্তি বৈধ হয়। কিন্তু উল্লেখ যে, যুক্তির বৈধতা অর্জনের জন্য যুক্তিবাক্য বা বচনকে সত্য হতে হবে এমনটা অনিবার্য নয়। অর্থাৎ বৈধতার ক্ষেত্রে যুক্তিবাক্য বা বচনটিকে বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ হবার দরকার পড়ে না। এক্ষেত্রে উদ্দীপক অনুসারে সত্যতার সাথে অবৈধ সিদ্ধান্তের একটি উদাহরণ হলো-
সব পাখি হয় দ্বিপদ-সত্য আশ্রয়বাক্য
সব পাখি হয় পালকযুক্ত প্রাণী- সত্য আশ্রয়বাক্য
∴ সব পালকযুক্ত প্রাণী হয় দ্বিপদ- সত্য অবৈধ সিদ্ধান্ত।
কিন্তু এ যুক্তিটির আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত সত্য হওয়া সত্ত্বেও এটি অবৈধ হয়েছে। কারণ এতে পদের ব্যাপ্ত সংক্রান্ত সহানুমানের নিয়ম অপ্রধান পদের ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে যুক্তিটি ভ্রান্ত হয়ে "অবৈধ অপ্রধান পদ অনুপপত্তি" সৃষ্টি করেছে। সুতরাং এ যুক্তিটির ক্ষেত্রে আমরা পাচ্ছি- "সত্যতা + অবৈধতা।"