1 Answers

উদ্দীপকের মাঝে আরোহ পদ্ধতির নিরীক্ষণ বা পর্যবেক্ষণ, সংজ্ঞা, বিশ্লেষণ, অপনয়ন বা অপসারণ, প্রকল্প গঠন, সার্বিকীকরণ বা সামান্যীকরণ, প্রমাণ বা পরীক্ষামূলক সমর্থন এবং সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা স্তরগুলোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে নিরীক্ষণের সাহায্যে আমরা আরোহের আশ্রয়বাক্যের বাস্তব উপাদান সংগ্রহ করি। নিরীক্ষণীয় ঘটনার অগ্রবর্তী ও অনুবর্তী বিষয়গুলো তথা সার্বিক পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ করি। কিন্তু এমন করতে হলে এই পর্যবেক্ষণ ব্যাপারটি অনিবার্যভাবে আনুষঙ্গিক কয়েকটি প্রক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত হতে হয়। যেমন- ১. সংজ্ঞা, ২. বিশ্লেষণ এবং ৩. অপনয়ন। সংজ্ঞা আমাদের স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয় ঘটনাটির আসল প্রকৃতি কী বা কী নয়। বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার জটিলতাকে ভেঙে সহজ-সরল রূপ প্রদান করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো রেখে অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো বাদ দেওয়ার নামই হলো অপনয়ন বা অপসারণ। কোনো ঘটনা ঘটলে তার পিছনে কোনো কারণ রয়েছে বলে আমরা একটা আন্দাজ বা ধারণা গঠন করি। এই আন্দাজ বা ধারণা গঠন করার প্রক্রিয়াকেই প্রকল্প গঠন বলে। প্রকল্প গঠন করার পর বিশেষ কিছু দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে সার্বিক বাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরীক্ষামূলক সমর্থনের অর্থ হলো, আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তটি নির্ভুল কিনা তা বাস্তব ক্ষেত্রে যাচাই বা প্রয়োগ করে দেখা। এটা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এই দুইভাবে লাভ করা যায়। প্রথমত, নিরীক্ষণ দ্বারা বাস্তব ঘটনাবলির সাথে সার্বিক সিদ্ধান্তকে তুলনা করে প্রত্যক্ষ সমর্থন লাভ করা যায়। অন্যদিকে, অবরোহ অনুমানের সাহায্যে অথবা বাস্তব ঘটনাবলি সংকলনের মাধ্যমে পরোক্ষ সমর্থন লাভ করা যায়। পরীক্ষামূলক সমর্থনের মাধ্যমে যদি সার্বিক বাক্যটি প্রমাণিত হয় তবে তা যথার্থ সিদ্ধান্তের মর্যাদা লাভ করে। বিজ্ঞানসম্মত নিরীক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্প গঠন করে, সেই প্রকল্পকে তার অন্তর্গত সমজাতীয় সকল দৃষ্টান্তের ক্ষেত্রে সত্য বলে প্রমাণ করতে হবে। এই সার্বিকীকরণের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক সমর্থন লাভ করতে হয়। এভাবেই একমাত্র সার্বিক বাক্যটির সত্যতা প্রমাণ করা যায় এবং সার্বিক বাক্যটি একটি প্রাকৃতিক নিয়মে উন্নীত হয়।

4 views

Related Questions