1 Answers
উদ্দীপকের ১ম দিনের আপেল কেনার ঘটনাটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ নির্দেশ করে। নিচে অবৈজ্ঞানিক আরোহ ব্যাখ্যা করা হলো-
যুক্তিবিদ মিল অবৈজ্ঞানিক আরোহ সম্পর্কে উল্লেখ করেন যে, "কোনো বিষয় বা ঘটনা সম্পর্কে আমরা যে কথা সত্য হয় বলে জেনেছি, সে কথা ঐ সমস্ত বিষয়ের সবগুলো সম্পর্কে যদি সত্য হয় তাহলে সেই সত্যের ভিত্তিতে একটি সার্বিক বাক্য স্থাপন করাই হলো অবৈজ্ঞানিক আরোহ।” অর্থাৎ প্রকৃতি থেকে পাওয়া আমাদের অবারিত অভিজ্ঞতাই হলো ঐ শ্রেণির। আরোহের মূল ভিত্তি। প্রখ্যাত যুক্তিবিদ জে.এস. মিল অবৈজ্ঞানিক আরোহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, "যে অনুমান পদ্ধতিতে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ব্যতীত শুধু একান্নবর্তী বা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতার উপর নির্ভর করে ব্যতিক্রমহীন অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষণ বাক্য স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।"
উদাহরণস্বরূপ: 'এ যাবৎ প্রকৃতির রাজ্যে যত রাজহাঁস দেখেছি সবই সাদা।' সুতরাং সব রাজহাঁস সাদা। যেহেতু অবাধ অভিজ্ঞতায় কোনো সময় কালো রাজহাঁস দেখা যায়নি, তাই রাজহাঁস শব্দটি আমাদের কানে এলেই আমরা তার সাদা রংয়ের প্রতি মনোযোগী হই। 'সাদা' বা 'কালো' হওয়া প্রকৃতির নিয়ম। 'কালো' বা 'সাদা' রং ইচ্ছা করলেই মানুষ করতে পারে না। একইভাবে 'টক' বা 'মিষ্টি' হওয়াও প্রকৃতির নিয়ম। মানুষ ইচ্ছা করলেই এই স্বাদ পরিবর্তন করতে পারে না। তাই উদ্দীপকে দুটি আমের স্বাদ পরখ করে সব আম সম্পর্কে 'মিষ্টত্ব' গুণটিকে স্বীকার করে নেওয়া হলো অবৈজ্ঞানিক আরোহ। এই আরোহে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় ছাড়াই শুধু অবারিত আভিজ্ঞতার সাহায্যে সার্বিক বাক্য গঠন করা হয় এবং এতে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে আরোহমূলক লম্ফ কর্তমান থাকে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের ১ম দিনের ঘটনা হলো অবৈজ্ঞানিক আরোহ।