1 Answers

উদ্দীপকে বিমলের বক্তব্য সাদৃশ্যমূলক অনুমানকে নির্দেশ করে। নিচে সাদৃশ্যমূলক অনুমান ব্যাখ্যা করা হলো-

দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করে যদি অনুমান করা হয় যে, তাদের একটি বিশেষ গুণের অধিকারী বলে অপরটিও ঐ গুণের অধিকারী হবে, তাহলে যে অনুমান করা হয় তার নাম সাদৃশ্যানুমান (Analogy)। উদাহরণস্বরূপ: মানুষ ও গাছপালার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে মিল আছে। অর্থাৎ উভয়ই মাটি, পানি, খাদ্য ছাড়া বাঁচতে পারে না, উভয়ই বংশ বৃদ্ধি করে।

মানুষ স্বভাবতই মরণশীল
 সুতরাং গাছপালাও মরণশীল।

সাদৃশ্যমূলক অনুমান দুই প্রকার:

১. সাধু সাদৃশ্যানুমান : যে সাদৃশ্যানুমানে কয়েকটি গুরুত্বহীন ও অনাবশ্যক বিষয়ে সাদৃশ্য দেখিয়ে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়, তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। 

২. অসাধু সাদৃশ্যানুমান : অসাধু সাদৃশ্যানুমানে সাদৃশ্যের বিষয়গুলো নিতান্তই অবান্তর এবং অপ্রাসঙ্গিক। কাজেই সাদৃশ্যের বিষয়গুলোর সাথে অনুমিত বিষয়ের কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক থাকে না। এরূপ অনুমানে সাদৃশ্যের তুলনায় বৈসাদৃশ্য ও অজ্ঞাত বিষয়ের সংখ্যা বেশি থাকে। কাজেই এর সিদ্ধান্তের পক্ষে সত্য হওয়ার বদলে মিথ্যার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেমন : কামাল ও জামাল দুই বন্ধু। তাদের মধ্যে গায়ের বর্ণ, উচ্চতা, দেহের গঠন, পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি বিষয়ে সাদৃশ্য আছে।

কামাল বুদ্ধিমান
অতএব জামাল বুদ্ধিমান।

এ যুক্তিটিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাদৃশ্য দেখিয়ে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। বাস্তবে গায়ের রং, উচ্চতা ইত্যাদির সাথে বুদ্ধির অস্তিত্বের কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নেই। কাজেই যুক্তিটি একটি অসাধু সাদৃশ্যানুমান।

সুতরাং উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, বিমলের বক্তব্য সাদৃশ্যমূলক অনুমানকে নির্দেশ করে। আর তার অনুমান বাহ্যিক ও গুরুত্বহীন সাদৃশ্যের ভিত্তিতে হওয়ায় তা অসাধু সাদৃশ্যমূলক অনুমান।

4 views

Related Questions