জাতি ও উপজাতি পরস্পর সম্পর্কিত এ আলোকে বিভিন্ন প্রকার জাতি ও উপজাতির ব্যাখ্যা দাও। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
'জাতি' ও 'উপজাতি' দুটি শব্দই যুক্তিবিদ্যায় জাতিবাচক। অর্থাৎ উভয়ই কোনো ব্যক্তিকে নয়, জাতিকে বোঝায়। জাতি ও উপজাতি দুটি সাপেক্ষ পদ। একটি অন্যটির উপর নির্ভরশীল। সম্পর্কভেদে একই পদ জাতি ও উপজাতি দুই-ই হতে পারে। অবস্থানের দিক থেকে 'জাতি' ও 'উপজাতি' ভিন্ন। ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে উপজাতিগুলো জাতির অন্তর্গত কিন্তু জাত্যর্থের দিক থেকে যেকোনো জাতি উপজাতির অন্তর্ভুক্ত। যেমন- 'জীব' ও 'মানুষ' পদের মধ্যে ব্যক্ত্যর্থের দিক দিয়ে জীব বড় কিন্তু জাত্যর্থের দিক দিয়ে মানুষ বড়। কারণ জীবের জাত্যর্থ হলো জীববৃত্তি আর মানুষের জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি'। জাতি ও উপজাতি প্রকৃতিতে বিশ্লেষণ করলে জাতি ও উপজাতির বিভিন্ন প্রকার পরিলক্ষিত হয়। যথা-
১. একই জাতীয় কিছু জাতি বা উপজাতিকে ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে ছোট থেকে বড় দেখা যায় যে, তাদের মধ্যে একটি জাতি এত বড় যে তার থেকে বড় আর কোনো শ্রেণি হয় না। এ বৃহত্তম বা বড় শ্রেণিকে 'পরমতম জাতি' বলে।
২. পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কিছু জাতি বা উপজাতিকে ব্যক্ত্যর্থের মাপকাঠিতে ক্রমানুসারে সাজানোর পর যদি দেখা যায় যে, একটি উপজাতি এত ছোট যে, তাকে আর কোনো ক্ষুদ্র উপজাতিতে বিভক্ত করা যায় না। একে ক্ষুদ্রতম উপজাতি বা অপরতম উপজাতি বলে।
৩. বৃহত্তম জাতি ও ক্ষুদ্রতম উপজাতির মধ্যবর্তী শ্রেণিসমূহকে উপজাতির দিক থেকে বিবেচনা করলে তাকে 'অবর জাতি' বলে।
৪. বৃহত্তম জাতি ও ক্ষুদ্রতম উপজাতির মধ্যবর্তী শ্রেণিসমূহকে জাতির দিক থেকে 'অবর উপজাতি' বলে।
৫. একটি জাতিকে যখন একাধিক উপজাতিতে বিভক্ত করা হয় তখন উপজাতিগুলোকে 'পরস্পরের সমজাতীয় উপজাতি' বলে।
৬. কোনো উপজাতির সবচেয়ে নিকটের জাতিকে বলা হয় আসন্নতম জাতি। যেমন- মানুষ পদের নিকটতম জাতি 'জীব'কে বলা হয় আসন্নতম জাতি।
৭. কোনো জাতির সবচেয়ে নিকটের উপজাতিকে বলা হয় আসন্নতম উপজাতি।