1 Answers
উদ্দীপকে দেখা যায় বিধেয়ক হিসাবে 'জাতির' ব্যক্ত্যর্থ সর্বক্ষেত্রে উপজাতি অপেক্ষা ব্যাপক হয় এবং উভয়ই শ্রেণিবাচক সাপেক্ষ পদ হয়ে থাকে। আর 'বিভেদক লক্ষণ' হচ্ছে কোনো পদের জাত্যর্থ। কিন্তু 'উপলক্ষণ' নিজে জাত্যর্থ না হলেও জাত্যর্থ থেকে অবশ্যম্ভাবীরূপে নিঃসৃত গুণ। অন্যদিকে 'অবান্তর লক্ষণ' নিজে জাত্যর্থ তো নয়ই, এমনকি জাত্যর্থ থেকে নিঃসৃতও হয় না, এমনই একটি গুন, যা আবার বিভিন্নভাবে ব্যক্ত হয়। এখানে জাতি ও উপজাতির তুলনামূলক আলোচনায় বলা যায় যে, কোনো শ্রেণিকে জাতি বলার অর্থ হলো তা অন্য কোনো উপজাতির তুলনায় জাতি। আর কোনো শ্রেণিকে উপজাতি বলার অর্থ হলো তা অন্য কোনো জাতির তুলনায় উপজাতি। অর্থাৎ জাতি ও উপজাতি হলো সাপেক্ষ পদ। এদের একটিকে বাদ দিয়ে অপরটির কোনোই অর্থ হয় না। উপজাতি ছাড়া কোনো পদই জাতিরূপে এবং জাতি ছাড়া কোনো পদই উপজাতিরূপে পরিচিত নয়। তাছাড়া কোনো শ্রেণিকে জাতি - বা উপজাতি বলার অর্থ এই নয় যে, তা সব ক্ষেত্রেই জাতি বা উপজাতি বলে বিবেচিত হবে। কাজেই একই শ্রেণিবাচক পদ এক সময় জাতি এবং অপর সময় উপজাতি হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন- মানুষ পদটি স্বতন্ত্রভাবে জাতি বা উপজাতি কোনটিই নয়। কিন্তু মানুষ পদটিকে এর থেকে কম ব্যাপক ছাত্র পদটির সাথে তুলনা করা হয়। তখন এটি জাতি এবং বেশি ব্যাপক জীব পদের সাথে তুলনা করা হয় তখন এটি উপজাতি। তবে ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে জাতি উপজাতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। জীব ও মানুষ পদ দুটির মধ্যে জীব পদটি জাতি এবং মানুষ পদটি উপজাতি। এদের মধ্যে ব্যক্ত্যর্থের বিচারে জীব পদটি বেশি ব্যাপক এবং মানুষ পদটি কম ব্যাপক। তাই জীব পদটি মানুষ পদটিকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু জাত্যর্থের দিক থেকে এটা সম্পূর্ণ বিপরীত, অর্থাৎ জীব পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি এবং মানুষ পদের জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি। এদিক থেকে মানুষ পদটি জীব পদকে অন্তর্ভুক্ত করে।