1 Answers
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার সামাজিক উপযোগিতার সাথে সাদৃশ্য বিদ্যমান। শিক্ষা মানুষের সামাজিক চাহিদা মেটাতে পারে। অন্যান্য প্রাণীকে বেঁচে থাকার জন্য তাদের জৈবিক চাহিদার পরিপূরক আচরণ করতে পারলেই যথেষ্ট। কিন্তু মানুষের জৈবিক সত্তা ছাড়াও তার একটা সমাজ সত্তা আছে। তাকে সমাজের সংস্কৃতির ধারাও আয়ত্ত করতে হয়। এ সমাজ সংস্কৃতির ধারা যা অতীত অভিজ্ঞতার সমষ্টি, তা জৈবিক বংশানুক্রমিক ধারায় মানুষের মধ্যে আসতে পারে না; মানুষকে অনুশীলনের মাধ্যমে তা আয়ত্ত করতে হয়। আমাদের পিতামাতা বা পূর্বপুরুষেরা যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে গেছেন, তা স্বাভাবিকভাবে আমাদের ওপর বর্তায় না। কিন্তু ব্যক্তিসত্তার বিকাশের জন্য এগুলোর সংরক্ষণ ও সঞ্চালন দুই-ই প্রয়োজন। শিক্ষা এ উভয় প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তাই প্রত্যেক মানুষের জীবদ্দশায় শিক্ষার প্রয়োজন। এ কারণেই শিক্ষার একটা সামাজিক উপযোগিতা মনুষ্য সমাজে বর্তমান। আর তাই আধুনিক অর্থে শিক্ষা এক ধরনের সামাজিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সামাজিক সংরক্ষণ এবং অগ্রগতি উভয় ধারাই বজায় থাকে।