1 Answers
রূপালি ও তার মা আচার, জেলি ও মোরব্বা তৈরির মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ করে।
সাধারণত আম, কুল, লেবু, জলপাই, তেঁতুল, আমড়া, চালতা ইত্যাদি ফলের আচার তৈরি করা হয়। এটি বহুল প্রচলিত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে মূলত লবণ দিয়ে সলিডস এর মাত্রা ও ভিনেগার দিয়ে অম্লত্বের মাত্রা বাড়িয়ে ফল সংরক্ষণ করা হয়। ফলে রোগজীবাণুর কার্যকারিতা রোধ করা সম্ভব হয়। তবে আচার বানাতে কিছু মশলা, চিনি, তেল ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়। এগুলো খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে ও সংরক্ষণ গুণাগুণ বৃদ্ধি করে। রূপালি ও তার মা জেলিও তৈরি করে। কোনো ফলে ঘনীভূত দ্রবণীয় সলিডের পরিমাণ ৬৫-৬৮% বা তার চেয়ে বেশি হলে সেসব ফল দিয়ে জেলি তৈরি সম্ভব হবে। তারা ফলের রসের সাথে পরিমিত পরিমাণ চিনি ও নাইট্রিক অ্যাসিড দিয়ে ঘনীভূত করে। TSS যখন ৬৫-৬৮% হবে তখন এতে পছন্দমতো ফ্লেবার দিয়ে পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত বয়ামে ভরে রাখতে হবে। TSS বৃদ্ধি করতে অনেক সময় তারা পেকটিন যোগ করে। এরপর তারা জেলি জমার জন্য কোনো স্থানে রেখে দেয়। এ পদ্ধতিতে আম, পেয়ারা, আনারস ইত্যাদির জেলি বানানো হয়। সর্বশেষ পদ্ধতিটি হলো মোরব্বা। মোরব্বা তৈরি করতে তারা উপযুক্ত ফল বাছাই করে পরিষ্কার করে নেয়। তারপর ফলগুলো টুকরো টুকরো করে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে গরম পানিতে কয়েক মিনিট ভাপ দিয়ে নেয়। এরপর তারা চিনির দ্রবণে ফলটি দিয়ে ফোটাতে থাকে। মোরব্বা তৈরিতে সাধারণত ফলের ওজনের ১- ২.৫ গুণ চিনি লাগে। চিনি জমে আসলে মোরব্বা প্রস্তুত হয়ে যায় এবং তখন সংরক্ষণ করতে হয়।
রূপালি ও তার মা এসব পদ্ধতির সাহায্যে ফল সংরক্ষণ করে এবং মৌসুম পরবর্তী সময়েও তা খেতে পারে ও বিক্রি করতে পারে।