1 Answers
সেলিম সাহেব ও আওলাদ হোসেন সাহেবের সন্তোষজনক ফলন প্রাপ্তির কারণ বীজ বপনের পূর্বে বীজ শোধন ও উপযুক্ত জাত নির্বাচন।
সেলিম সাহেব তার জমিতে দু'সারি নালা পদ্ধতিতে ঈশ্বরদী-২০ ও. আওলাদ সাহেব তার সবজি বাগানে ঈশ্বরদী-১৬ জাতের আখ চাষ করেন। প্রচুর বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে তাদের জমিতে লাল পচা রোগ দেখা দেয়। তথাপি তারা সন্তোষজনক ফলন পেয়েছে। লাল পচা রোগ ছত্রাকের আক্রমণে হয়। এ রোগের ফলে আখের কাণ্ড পচে যায়, পাতাগুলো হলুদ হয়ে যায়। পরে পাতাগুলো আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়। এ রোগে আক্রান্ত হলে আখের ফলন অনেক কমে যায়। তবে সেলিম সাহেব ও আওলাদ সাহেবের জমিতে আশানুরূপ ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এর কারণ বীজ বপনের পূর্বে তারা ব্যাভিস্টিন ৫০ ডব্লিউপি বা ফরাস্টিন দিয়ে বীজ শোধন করে লাগিয়ে ছিলেন। ফলে ছত্রাকের আক্রমণ প্রাদুর্ভাব বিস্তার করতে পারেনি। সেলিম সাহেব তার জমিতে সুনিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ পায়নি। সেলিম সাহেব ও আওলাদ হোসেনের জাত নির্বাচনও সুচিন্তিত ছিল। আওলাদ সাহেবের নির্বাচিত ঈশ্বরদী-১৬ জাতটি বর্তমানে সবচেয়ে উন্নত জাত। অন্যদিকে ঈশ্বরদী-২০ জাতটি খরা, বন্যা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি প্রতিকূল পরিবেশ সহিষ্ণু আখের জাত। যার ফলে সেলিম সাহেবের জমিতে এই জাতটি চাষে ফলন ভালো হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, আখের রোগ দমনে ও ভালো ফলন প্রাপ্তিতে তাদের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। তাই তারা আশানুরূপ ফলন লাভ করেন।