1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটি হলো তুলা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তুলা চাষ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ পৃথিবীর ৫ম বৃহত্তম তুলা ব্যবহারকারী এবং ২য় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ। ২০১৭-১৮ সালে দেশে ৪৩০৫০ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ করে ১৬৫২৬৯ বেল তুলা আঁশ উৎপাদন করা হয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, আমাদের দেশে উৎপাদিত তুলার গুণগত মান আমদানিকৃত তুলার গুণগতমানের থেকে উৎকৃষ্ট। তুলা টেক্সটাইল মিলের প্রধান কাঁচামাল এবং চাষিদের নিকট একটি অর্থকরী ফসল। উৎপাদিত বীজতুলা থেকে ৪০% আঁশ ও ৬০% বীজ পাওয়া যায়। বীজ থেকে পুনরায় ১৫% ভোজ্যতেল ও ৮৫% খৈল পাওয়া যায়। উৎপন্ন তেল রান্নার কাজে, সাবান তৈরিতে এবং বিভিন্ন পিচ্ছিলকারক পদার্থ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তুলার খৈল মাছ ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুকনো তুলা গাছ জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশে গবেষণার মাধমে তুলার কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে যার ফলন ও আঁশের গুণগতমান ভালো হওয়ায় বিপুল চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের তুলা উন্নয়ন বোর্ড চেষ্টা করছে যেন আগামী দিনগুলোতে আমাদের তুলার চাহিদার অধিকাংশ এদেশে উৎপাদন করা যায়। এদেশে বিটি তুলার জাতকে অবমুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা থেকে হয়ত আমাদের তুলা উৎপাদন বাড়বে। তুলা একটি খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসল। তাই তুলা উন্নয়ন বোর্ড দেশের খাদ্য উৎপাদনীয় জমি ব্যবহার না করে অন্য অঞ্চলে তুলা চাষকে সম্প্রসারণ করার প্রয়াস নিয়েছে। তারা তামাক চাষের জমি ও কৃষি বনায়নের জমিতে এবং খরাপ্রবণ, লবণাক্ত, চর ও পাহাড়িয়া এলাকায় তুলা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। এতে করে বেকার ও দরিদ্র কৃষকদের আয়ের ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় পারিবারিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অতএব, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তুলা ফসলটি চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

5 views

Related Questions