1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটি হলো পাট।
পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী বা বাণিজ্যিক ফসল। নিচে পাটের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
বাংলাদেশে উৎপাদিত অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে পাটের স্থান শীর্ষে। এদেশের আঁশের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে পাট। অতীতে (১৯৭২-৭৩ সালে) এদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ৮৯% আসত পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে। বর্তমানে দেশে ও বিদেশে প্রতিকূল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেও বৈদেশিক মুদ্রার অধিকাংশই আসছে পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে। বর্তমানে আমাদের কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্যের রপ্তানি মূল্য যথাক্রমে ১২২৫.৫৫ ও ৬৮০১.৫৭ কোটি টাকা। পাটের ব্যবহারিক উপযোগিতা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব ইত্যাদি বিবেচনা করে পাটকে সোনালি আঁশ বলে অভিহিত করা হয়। পাট ফসলটি খরা ও জলাবদ্ধতা দুটোই সহ্য করতে পারে। কাজেই বাংলাদেশের যে সব এলাকায় সেচ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে এবং যেখানে পানি জমে থাকে, সেখানে সহজে পাট চাষ করা সম্ভব। এছাড়া বাংলাদেশে অনেক জমি আছে যেখানে পাট ছাড়া অন্য কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব নয়। কৃষকেরা যেমন পাটশাক ও পাট বিক্রি করে অর্থ আয় করতে পারবে, তেমনি পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। শুধু আঁশ ফসল হিসেবেই নয়, কৃষিজাত শিল্পে, ঔষধ শিল্পে, পরিবেশ সংরক্ষণে ও পুষ্টিকর সবজি হিসেবে পাটের গুরুত্ব অপরিসীম।
পাটের নানমুখী ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন পাটজাত দ্রব্য থেকে অনেক অর্থ উপার্জন সম্ভব। তাই পাটের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।