1 Answers
বিথীর এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট সমস্যা হলো লবণাক্ততা।
জমি সমুদ্রের পানি দ্বারা প্লাবিত হওয়ার কারণে মাটিতে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ক্লোরাইড ও সালফেট লবণের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা সমাধানের উপায় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
জমির চারপাশে আইল দিয়ে ভারী সেচ দিলে এবং মূলাঞ্চলের নিচ বরাবর গভীরতায় নিষ্কাশন নালা তৈরি করে জমির পানি বের করে দিলে লবণাক্ততা হ্রাস পায়। মাটিতে লবণের মাত্রা ফসলের মূলাঞ্চলের নিচে রাখতে পারলে ফসল ভালোভাবে চাষ করা যায়। সূর্যালোকের কারণে বাষ্পীভবনের সাথে লবণ মাটির ওপরের দিকে চলে আসে। মাটির উপরিভাগে কোদাল, নিড়ানির সাহায্যে মাটি আলগা করে দিলে ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং লবণ মাটির নিচের স্তরেই থেকে যায়। আমন ধান কাটার পরে রবি ফসল চাষ করতে দেরি হলে লবণ যেন মাটির উপর উঠে আসতে না পারে সেজন্য তাড়াতাড়ি জমিতে চাষ দিতে হবে। শেষ চাষের সময় জমি ভালোভাবে সমান করতে হবে। লবণাক্ত জমিতে বীজ ছিটিয়ে বুনলে লবণ তাড়াতাড়ি উপরে উঠে আসে এবং বীজ কম গজায়। তাই গর্ত তৈরি করে বীজ মাটির একটু উপরে বপন করতে হবে। লবণাক্ত অঞ্চলে চাষের জন্য লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের জাত নির্বাচন করতে হবে। লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাতের ধান হলো- আউশ (ব্রি ধান ৫৫), আমন (ব্রি ধান ৪০, ব্রি ধান ৪১, ব্রি ধান ৫৩, ব্রি ধান ৭৩ এবং বোরো (ব্রি ধান ৪৭, ব্রি ধান ৫৫)।
সুতরাং, বিথীর এলাকায় সৃষ্ট লবণাক্ততা সমস্যা সমাধানে ও লাভজনকভাবে ফলন পাওয়ার জন্য উপরে উল্লিখিত উপায় অবলম্বন করতে হবে।