1 Answers

উক্ত মনীষী তথা কার্ল মার্কস তাঁর সামাজিক পরিবর্তন তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সামাজিক কাঠামোকে কয়েকটি স্তরে বিভক্ত করেছেন। এগুলো হলো-

১. প্রাচ্য বা এশীয় সমাজব্যবস্থা, ২. প্রাচীন সমাজব্যবস্থা, ৩. সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থা, ৪. সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা।

মার্কসের মতে, প্রাচ্য বা এশীয় সমাজব্যবস্থা সবচেয়ে প্রাচীন। সেখানে সীমিত পরিসরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শ্রমবিভাগ লক্ষ করা যায়। সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল না। উৎপাদন ছিল মূলত ভোগের জন্য অর্থাৎ বিক্রির উদ্দেশ্যে কোনো উৎপাদন হতো না।

দাস বিদ্রোহের ফলে প্রাচীন প্রথা ভেঙে সামন্ত প্রথার উদ্ভব ঘটে। এখানে ভূস্বামীরা ছিলেন জমির মালিক, কৃষকেরা ছিলেন উৎপাদনের উপকরণের মালিক আর যন্ত্রপাতির মালিক ছিলেন কারিগরি শ্রেণি। কালক্রমে মুদ্রার প্রচলন, মজুরির বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক কলাকৌশল আবিষ্কার, নতুন বাজার সৃষ্টি ইত্যাদি কারণে সামন্ত সমাজব্যবস্থা ভেঙে পুঁজিবাদী সমাজের পত্তন হয়।

পুঁজিপতি কর্তৃক সর্বহারাদের ক্রমাগত নিপীড়নের ফলে সর্বহারারা প্রতিবাদী হয়ে উঠবে এবং পুঁজিপতিদের সাথে সংঘাতে জড়াবে। মার্কসের মতে, এ সংঘাতে পুঁজিবাদের ধ্বংসসাধন হবে। ফলে সর্বহারাদের একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্যবাদ। কার্ল মার্কস তার মতবাদ দ্বারা মূলত শোষণমুক্ত সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।

4 views

Related Questions