1 Answers

চিকিৎসাশাস্ত্রে ইবনে সিনার অবদান অত্যন্ত ব্যাপক। ইবনে সিনাকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তিনি ওষুধ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এ জন্য ইউরোপের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা তাঁকে 'Master of Medicinc' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিপোক্লিটাস ও গ্যালেনের রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ চিকিৎসাশাস্ত্রের পূর্ণতা বিধান করেন। তিনিই প্রথম ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, যক্ষ্মা একটি সংক্রামক ব্যাধি যা মাটি ও পানির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। যক্ষ্মা বিষয়ে তার গবেষণা ছিল অত্যন্ত আধুনিক। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রের ওপর কিছু গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হচ্ছে 'কানুন ফিততিব' যা ইউরোপীয়দের কাছে চিকিৎসাশাস্ত্রের বাইবেলরূপে সমাদৃত। এ গ্রন্থে ৭৬০টি ওষুধের বর্ণনা এবং চিকিৎসা পদ্ধতি উল্লিখিত হয়েছে। 'কানুন ফিততির' ছাড়াও ইবনে সিনা, 'কিতাবুস শিফা' নামে ১৮ খণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। এতে তিনি রোগের উপসর্গ ও নিরাময় পদ্ধতি সম্পর্কে বিবরণ দেন। কিতাবুল মুরাদ, কিতাবুল নাজাত ইবনে সিনার অন্যতম গ্রন্থ।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, অসামান্য প্রতিভার অধিকারী ইবনে সিনা নিজ প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক হিসেবে বিখ্যাত হয়ে আছেন।

4 views

Related Questions