1 Answers

উদ্দীপকের ড. সাখাওয়াতের বক্তব্যে দর্শনশাস্ত্রের উল্লেখ করা হয়েছে। জীবন ও জগতের প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার নাম দর্শন। স্রষ্টা, সৃষ্টিজগত, আত্মা প্রভৃতি দর্শনের অন্যতম আলোচ্য বিষয় যা ড. সাখাওয়াতের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের ড. সাখাওয়াত এক সম্মেলনে বলেন- মুসলমানদেরকে আল্লাহ, সৃষ্টিজগত এবং আত্মার পরিচয় জানা দরকার; যাতে যুক্তিনির্ভর আলোচনার মাধ্যমে নিজের ধর্মকে তুলে ধরতে পারে। তার এ বক্তব্যে দর্শনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। দর্শনের উৎকর্ষ সাধনে মধ্যযুগের মুসলিম মনীষীদের অবদান অপরিসীম। যেমন- 'ফালাসিফা' গোষ্ঠীর প্রবর্তক আল-কিন্দি গ্রিক দর্শন আরবিতে অনুবাদের কাজ শুরু করেন। তিনি 'এরিস্টটলের ধর্মতত্ত্ব' (Theology of Aristotle) আরবিতে অনুবাদ করেন। তাকে 'আরব জাতির দার্শনিক' বলা হয়। আল- ফারাবি এরিস্টটলের দর্শনের সাথে প্লেটোর দর্শনের সমন্বয় সাধন করেন এবং এরিস্টটলের ওপর প্রায় পঞ্চাশটি গ্রন্থ রচনা করেন। ইবনে সিনা ধর্ম ও দর্শনকে আলাদা করে দেখান এবং প্রমাণ করেন, দর্শন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয় বরং এর প্রায়োগিক মূল্যও আছে। আল-গাযযালি দর্শনের মাধ্যমে আল্লাহভীতির পুনঃপ্রবর্তন করেন। তার প্রচেষ্টায় সুফিবাদ ইসলামের অন্যতম মতবাদ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ইবন রুশদ এরিস্টটলীয় দর্শনের মূলতত্ত্ব খুঁজে বের করার প্রয়াস পান এবং তিনি ধর্ম ও দর্শনকে অভিন্ন বিষয় মনে করেন। আল্লামা ইকবাল দেখিয়েছেন যে, সংসার থেকে পালিয়ে নয় বরং জীবনসংগ্রামেই আত্মা মোহমুক্ত হয়। ইকবাল মানবব্যক্তিত্বে বিশ্বাস করতেন এবং এর চরম উন্নতিবিধানকেই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য মনে করতেন।

আর মুসলিম মনীষীরা এসব কাজের মাধ্যমে দর্শনে উৎকর্ষ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

5 views

Related Questions