1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত (ii) নং উপাদানটি হলো বৃষ্টিপাত। ফসল উৎপাদনে বৃষ্টিপাতের ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ফসলের উপর বৃষ্টিপাতের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মাটি ও বায়ুর আর্দ্রতা প্রধানত বৃষ্টিপাত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। শস্য উৎপাদনের জন্য বৃষ্টিপাত যথেষ্ট না হলে সেচের মাধ্যমে পানির চাহিদা পূরণ করতে হয়। আবার অত্যাধিক বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা বা জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে অতিবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল অপেক্ষা উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অপেক্ষাকৃত কম বলে রবি মৌসুমে যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর ও রাজশাহী জেলায় ছোলা, মসুর, মাষকলাই, মটর, খেসারি, চিনাবাদাম প্রভৃতি কম পানি পছন্দকারী শস্যের প্রচুর আবাদ পরিলক্ষিত হয়।
কালবৈশাখীর সাথে যে বৃষ্টিপাত হয় তা আমাদের দেশের কৃষির জন্য অপরিহার্য। এ সময় জমি চাষ এবং খরিপ শস্য বপন শুরু হয়। মার্চ হতে মে মাস পর্যন্ত এ ঝড় প্রায়ই সংঘটিত হয়। এ সময় দক্ষিণ দিক হতে প্রবাহিত উষ্ণ জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উত্তর-পূর্বে পৌঁছালে তা পাহাড়ের গায়ে বাধা পেয়ে উপরে উঠতে থাকে। এ বায়ুর ঠিক উপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এ দুই বিপরীতগামী বায়ুপ্রবাহের সন্ধিস্থলে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। কালবৈশাখী পশ্চিম অঞ্চল অপেক্ষা পূর্ব অঞ্চলে বেশি সংঘটিত হয় বলে এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বেশি হয়। জুন মাসের শেষ দিক হতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের সাথে সাথে বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং তা প্রায় অক্টোবর পর্যন্ত চলতে থাকে। এ ধরনের বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি মৃত্তিকার দ্রুত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সিলেট এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে চা ভালো হয়।