1 Answers
ফসল উৎপাদনে উদ্দীপকের উল্লিখিত আবহাওয়ার উপাদান তাপমাত্রা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
শীতকালীন ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা হচ্ছে ১৬°-৩০° সে ও সর্বোচ্চ হচ্ছে ৩১°-৩৭°সে.। গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা হচ্ছে ৩১°-৩৭° সে., সর্বোচ্চ ৩৮০-৫০° সে. ও সর্বনিম্ন ১৮°-৩০° সে.। বীজের অঙ্কুরোদগমের উপযোগী তাপমাত্রা ২৫°-৩০° সে., এর কম বেশি হলে বীজ গজাতে সময় বেশি লাগে অথবা গজায় না। বর্তমানের তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে উফশী ধানের ফলন কমে যাবে এবং গমে রোগের আক্রমণ বেড়ে যাবে। ফুল ফোটার সময় ধানগাছ সবচেয়ে বেশি কাতর থাকে। এ সময় তাপমাত্রা ৩৫° সে. এর বেশি হলে ধানে চিটার পরিমাণ বেড়ে যাবে। নিম্ন তাপমাত্রার কারণে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও হলদে বর্ণ ধারণ করে। ধানের চারা দুর্বল হয় এবং ফসলের জীবনকাল বেড়ে যায়। তাপমাত্রা বেশি কমে গেলে সরিষার দানা গঠন হয় না; আখ, জোয়ার ও ভুট্টা গাছে ক্ষত সৃষ্টি হয়।
উচিত। এতে গাছে শ্বসনের চেয়ে খাদ্য তৈরি বেশি হয়। বেশি তাপমাত্রায় অনেক গাছ ফল ধারণ করে না। শাকসবজির গুণগত মানও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। বেশি তাপমাত্রায় মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপির স্বাদ কম হয়। আম, লিচু প্রভৃতি ফল গাছের ফুল বিকাশের জন্য কম তাপমাত্রার প্রয়োজন। উচ্চ তাপমাত্রা আমের বৃদ্ধি ও পরিপক্বতা ত্বরান্বিত করে। আমের আকার ও গুণগতমান উন্নত করে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, যেকোনো ফসল উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে তাপমাত্রার প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।