1 Answers

উদ্দীপকে কৃষি কর্মকর্তা মিঃ আব্দুস সালামকে মার্চ মাসে ফুলকপির পরিবর্তে ঢেঁড়শ চাষ করতে পরামর্শ দিলেন। মূলত তিনি ফসলের ওপর তাপমাত্রার বিভিন্ন প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করেই এই পরামর্শটি দেন। ফসলের উৎপাদনে তাপমাত্রার খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। যেমন-

i. শারীরবৃত্তীয় ও জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার উপর: প্রতি 10 deg সে. তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে উদ্ভিদে রাসায়নিক বিক্রিয়া ২-৩ গুণ ও আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়া ১-২ গুণ বেড়ে যায়। তাপমাত্রা 0 - 6 * t deg সে. এর মধ্যে থাকলে সে সময় প্রতি 10 deg সে. তাপমাত্রা বাড়ার কারণে সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা ১.৫- ১.৬ গুণ এবং শ্বসনের মাত্রা ২-২.৫ গুণ বেড়ে যায়। তাই মার্চ মাসে (খরিফ-১ মৌসুমে) অধিক তাপমাত্রায় সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের হার বৃদ্ধি পেয়ে ফুলকপির মাথার ফুল গঠন বাধাপ্রাপ্ত হয়। 

ii. বীজের অঙ্কুরোদগমের উপর: বীজের অঙ্কুরোদগমের উপর তাপমাত্রার বিশেষ প্রভাব রয়েছে। যেমন- 2 * Q deg সে. তাপমাত্রায় মাত্র ৫-৭ দিনেই টমেটোর বীজ গজায়, কিন্তু ১২- 30 deg সে. তাপমাত্রায় গজাতে ১২ দিন লাগে। 

iii. চারাগাছের বৃদ্ধিতে: বীজ গজানোর ১০-১২ দিনের মধ্যে ১১- S * q ^ o সে. তাপমাত্রা বজায় রাখা গেলে গাছের শিকড় দৃঢ় হয়। কারণ এতে শ্বসন কমে যায়, তাই শর্করা বেশি মজুদ হয়। ফলে বেশি সংখ্যক চারা মাঠে টিকে থাকে। আবার, আখের ক্ষেত্রে Q * Q deg সে. ও পাটের ক্ষেত্রে 8 * o deg সে. এর কম তাপমাত্রায় শারীরবৃত্তীয় বৃদ্ধি একেবারেই কমে যায়।

iv. ফুল-ফল উৎপাদন: ফুল ও ফল উৎপাদনের সময় তাপমাত্রা কম থাকা উচিৎ। এতে শ্বসনের তুলনায় সালোকসংশ্লেষণের হার বেড়ে গিয়ে শর্করা বেশি পরিমাণে সঞ্চিত হয়। এসময় গাছের অঙ্গজ বৃদ্ধি কম ঘটে বলে সঞ্চিত শর্করা ফুল-ফল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। 

ফুলকপি জাতভেদে তাপমাত্রার বিভিন্নতায় খুবই সংবেদনশীল সাধারণত ঠান্ডা ও আর্দ্র জলবায়ু যেমন- ১৫-২২° সে. তাপমাত্রায় ফুলকপি ভালো জন্মে। ফলে তা খরিফ মৌসুমের উপযোগী নয়। অপরদিকে, খরিফ মৌসুমের উপযোগী বলে সে সময় ব্যাপকভাবে ঢেঁড়শের চাষাবাদ হয়।

এসব কারণে এক মৌসুমের সবজি আরেক মৌসুমে বপন করলে তার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়। তাই বলা যায়, কৃষি কর্মকর্তা মিঃ আব্দুস সালামকে যথার্থ পরামর্শ দিয়েছেন।

5 views

Related Questions