1 Answers
উদ্দীপকের সেচ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিটি হলো পর্যায়ক্রমিক ভেজানো ও শুকানো বা AWD (Alternate Wetting and Drying) পদ্ধতি।
এই পদ্ধতিতে সেচের জন্য ২৫ সেমি লম্বা ও ৭-১০ সেমি ব্যাসের একটি পাইপ (প্লাস্টিকের বা বাঁশের) প্রয়োজন হয়। পাইপটির উপরের ১০ সেমি ছিদ্রহীন ও নিচের ১৫ সেমি ছিদ্রযুক্ত হবে। পাইপটি ধানক্ষেতে এমনভাবে স্থাপন করতে হয় যেন ছিদ্রহীন অংশ ১০ সেমি মাটির উপরে থাকে। ধানের চারা রোপণের ১০- ১৫ দিন পর্যন্ত ২-৪ সেমি দাঁড়ানো পানি রাখতে হয়। এরপর পাইপের তলায় যখন মাটি দেখা যায় তখন পুনরায় সেচ দিতে হয় এবং প্রতিবার সেচের সময় এমন পরিমাণ পানি দিতে হয় যেন জমির ৫ সেমি গভীরতায় পানি থাকে। যখন সেচের প্রয়োজন হয় ঠিক তখনই পানি সেচ দেওয়া হয় বলে এই পদ্ধতিতে গতানুগতিক সেচ পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৩০-৩৫% পানির সাশ্রয় হয়। গতানুগতিক পদ্ধতিতে প্রতিকেজি ধান উৎপাদনে ৩৫০০- ৪০০০ লিটার পানি লাগে, কিন্তু AWD তে লাগে মাত্র ২০০০ লিটার। AWD পদ্ধতিতে জমিতে দাঁড়ানো পানি না রেখে জমি সবসময় আর্দ্র রাখা হয়। এতে মাটির গুণগত মান বজায় থাকে, মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ কম হয় ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে। এ পদ্ধতিতে সেচ প্রদানে গতানুগতিকের তুলনায় প্রায় ২৫-৩০% জ্বালানি খরচ কম হয়।
এভাবে উদ্দীপকের AWD সেচ পদ্ধতিটি লাভজনকভাবে ফসল উৎপাদনে সাহায্য করবে।