1 Answers
উদ্দীপকের শফিক সাহেব তার জমিতে প্রথম তিন বছর আচ্ছাদন জাতীয় শস্যের চাষ করেন। আচ্ছাদন জাতীয় শস্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগত কারণে শফিক সাহেবের জমিতে তেমন কোনো সার প্রয়োগ করতে হয়নি।
আচ্ছাদন জাতীয় শস্য জমির মাটিকে আবৃত রাখে। যার ফলে বাতাস ও বৃষ্টির পানি মাটির উপরিভাগকে খুব ক্ষতি করতে পারেনি। এতে করে পুষ্টি উপাদানও হ্রাস পায়নি। ফলে মাটি উর্বর ছিল। তাই অতিরিক্ত সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় নি। এ ছাড়া এ জাতীয় শস্যের মূলে নডিউল তৈরি হয় যা বাতাসের নাইট্রোজেনকে মাটিতে সংবদ্ধ করে। এতে করে মাটিতে নাইট্রোজেনের ঘাটতি হয়নি। ফলশ্রুতিতে জমিতে নাইট্রোজেন জাতীয় সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি। তাছাড়া এসব শস্যের অগভীর মূল থাকায় এরা মাটির কণাকে আটকিয়ে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান অপচয় হতে দেয়নি। ফলে মাটি উর্বর থাকায় কোনো ধরনের রাসায়নিক সারও প্রয়োগ করতে হয় নি। আবার বিশেষ করে এসব শস্যের পাতা জমিতে পড়ে সহজে পচে জমিতে জৈব পদার্থের সংযোজন করে। এর ফলে জমিতে অতিরিক্ত জৈব সারও প্রয়োগ করতে হয়নি।
সুতরাং বলা যায়, উল্লিখিত কারণগুলোর জন্যই শফিক সাহেবের জমিতে প্রথম তিন বছর তেমন কোনো ধরনের সার প্রয়োগ করতে হয়নি।