উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কোনগুলো ও কেন দ্রুত সুফল দিতে পারে বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকে কৃষি কর্মকর্তা মুরাদনগর এলাকার কৃষকদের ভূমিক্ষয় রোধ ও মাটির উর্বরতা সংরক্ষণে যেসব পদ্ধতির কথা বলেন তার মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ফসল ব্যবস্থাপনা দ্রুত সুফল দিতে সক্ষম।
ভূমি ব্যবস্থাপনায় জৈব সার প্রয়োগ, ঘাস লাগানো, সেচ নিড়ানি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। জৈব সার প্রয়োগ করলে মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাবলি উন্নত হয়। মাটিতে পুষ্টি উপাদান যোগ হয়। মাটির কণাগুলো আঠার মতো আটকে থেকে বুনট উন্নত করে ভূমিক্ষয় রোধ করে। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে আর্দ্রতা সংরক্ষণ করে। নতুন জমিতে ঘাস লাগালেও তা মাটির কনাকে আটকে রাখে। জমিতে সেচ দিলে মাটির কণা জমাট বেঁধে থাকে বলে বায়ুপ্রবাহে মাটি অপসারণ হয় না। নিড়ানি দিলে মাটির রন্দ্র বন্ধ হয়ে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে। তেমনিভাবে, বৃষ্টির আগে জমিতে নিড়ানি দেওয়া যাবে না। কারণ তখন মাটি ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ফসল ব্যবস্থাপনায় শস্য পর্যায় অবলম্বন, মাটির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফসল নির্বাচন, সাথি ফসল চাষ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষ না করে ভিন্ন ভিন্ন ফসল উৎপাদন করাই হচ্ছে শস্য পর্যায়। কারণ, বিভিন্ন ফসলের শিকড়ের গভীরতা কম বেশি হওয়ায় কর্ষণেও কম-বেশি হয়। শস্য পর্যায়ে বিভিন্ন ফসলের পুষ্টির চাহিদা বিভিন্ন রকম হওয়ায় পুষ্টি সংরক্ষিত থাকে। আবার ফসলকে ভূমির ঢালের আড় বরাবর রোপন করে ভূমি সংরক্ষণ করা সম্ভব। যে সকল ফসল জমিকে উন্মুক্ত করে রাখে তাদের সাথে জমিতে আবৃত করে রাখে এমন আচ্ছাদন ফসল (যেমন-মিষ্টি কুমড়া, লাউ) চাষ করলে ভূমিক্ষয় রোধ হয়। দীর্ঘজীবী ফসলের সাথে সাথি ফসল (যেমন- আখের সাথে ডাল জাতীয় ফসল) চাষ করলেও ভূমিক্ষয় রোধ হয়।
অতএব, উপরের আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায়, ভূমি ও ফসল ব্যবস্থাপনা অবলম্বনের মাধ্যমে কৃষক সফলতা পাবেন।