1 Answers
উদ্দীপকের কৃষিবিদ জসীম উদ্দীনকে আনারস চাষে সফল হতে মাটি সংশোধনের পরামর্শ দেন। যদি কোনো মাটিতে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যায় বা জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে তা হলে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও চাষোপযোগী করে গড়ে তোলাকেই মাটি সংশোধন বলে।
ক্ষারীয় মাটি সংশোধনের মাধ্যমে অম্লীয় মাটিতে ভালো জন্মে এমন ফসল চাষাবাদের উপযোগী করা যায়। মাটি থেকে ক্ষারত্ব দূরীকরণের প্রথম উপায় হলো মাটি থেকে লবণ সরিয়ে দেওয়া। পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণমুক্ত পানি সেচ দিয়ে এর নিকাশের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে মাটির ক্ষারদ্রব্য ধুয়ে যায়। গন্ধক ব্যবহার করে মাটির ক্ষারকত্ব নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সোডিয়াম সালফেটকে নিষ্কাশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাটি থেকে দূরীভূত করতে পারলে মাটির ক্ষারকত্ব কমানো সম্ভব। সাধারণত জমিতে pH এর পরিমাণ ৭.৫-এর বেশি হলে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বুঝে চুনাপাথর প্রয়োগ করতে হয়। মাটিতে অবস্থিত জৈব পদার্থ মাটির বাফার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে মাটির ক্ষারত্ব কমে যায়। তাছাড়া মাটির ক্ষারত্ব কমাতে বায়োফার্টিলাইজার ও ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি অম্লত্ব সৃষ্টিকারী রাসায়নিক সার যেমন- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম সালফেট প্রভৃতি জমিতে প্রয়োগ করলে মাটির ক্ষারকত্ব কমে অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়। ফলে মাটি আনারস চাষের উপযুক্ত হয়।
তাই বলা যায়, উপরের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষারীয় মাটিকে সংশোধন করে অম্লীয় মাটির শুরুর পর্যায়ে নিয়ে আনারস চাষে সফল হওয়ায় কৃষিবিদের পরামর্শগুলো যথার্থ ছিল।