1 Answers
উদ্দীপকে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে ধান উৎপাদন সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও উন্নয়ন কাজ করে থাকে। বাংলাদেশের বিশাল পরিমাণ জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য অধিক ফসল উৎপাদন করা প্রয়োজন। কিন্তু চাষযোগ্য ভূমির পরিমাণ দিনে দিনে কমছে। তাই বর্তমানে অধিক ফলনশীল জাতের চাহিদা বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের জলবায়ুও দিনে দিনে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে পূর্বের অধিক ফলনশীল জাতও এখন আশানুরূপ ফলন দিতে পারছে না।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নতুন নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করছে। নতুন জাতের মধ্যে খরা সহনশীল (ব্রি ধান ৬৫, ব্রি ধান ৬৬, ব্রি ধান ৭১) লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত (ব্রি ধান ৬১, ব্রি ধান ৬৭, ব্রি ধান ৭৩) উদ্ভাবন করেছে। ফলে কৃষক ঐ সব এলাকার জমিতে অতি সহজেই ধানের চাষ করতে পারছে। আবার বন্যাপ্রবণ এলাকায় ১০-১৫ দিন পানির নিচে ডুবে থাকতে পারে, এমন জাতের ধান আবিষ্কার করা হয়েছে (ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২)। ফলে বন্যার সময় ধান ফসলের ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। ফলে বর্তমানে আগের তুলনায় ধানের উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক সারা বছর ধান উৎপাদনের ফলে লাভবান হচ্ছে, যা আমাদের অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক ধানের নতুন নতুন জাত আবিষ্কার আমাদের অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে।