1 Answers

উদ্দীপকের জাহিদ হাওলাদার একজন নিরক্ষর দিনমজুর। নিরক্ষরতার কারণে তিনি কাজের ক্ষেত্রে ভীষণ ঠকে যাচ্ছেন। তাই তিনি ক্ষোভে, দুঃখে স্থানীয় এক নৈশ বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হন। তার মতো মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে আমার যে সুপারিশ তা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-

প্রথমত, নিরক্ষরতা দূরীকরণে শিক্ষিত বেকার সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। সে সঙ্গে শিক্ষার মর্যাদা বৃদ্ধি করাও অতীব প্রয়োজন। নিরক্ষরতা দূর করতে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বয়স্ক শিক্ষাদান কর্মসূচি বয়স্কদের পেশার সঙ্গে যাতে সংগতিপূর্ণ হয় সেজন্য বিশেষ পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করতে হবে। পর্যাপ্ত বৃত্তি, শিক্ষা ঋণ প্রকল্প চালু ও শিক্ষার উপকরণ সহজলভ্য করার ব্যবস্থা নেওয়াও আশু জরুরি।

তৃতীয়ত, গ্রামের যেসব বাবা-মা নানা কারণে তাদের সন্তানদের সংসারের কাজে লাগাতে বাধ্য হন, তাদের সন্তানদের জন্য গ্রাম এলাকায় স্বল্পমেয়াদি অথবা দীর্ঘমেয়াদি নৈশকালীন শিক্ষাব্যবস্থা -প্রবর্তন করা যেতে পারে।

চতুর্থত, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। বস্তুত যে শিক্ষাজীবন পেশার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, সে শিক্ষা মানুষকে কর্মবিমুখ করে। যে শিক্ষা আমাদের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ হয় সে শিক্ষা গ্রহণে কেউই এগিয়ে আসতে পারে না। তাই শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে বাস্তবমুখী।

উতাই জাহিদ হাওলাদারের মতো সমাজের অনগ্রসর অংশকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির জন্য তাদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া জরুরি এবং উপরোক্ত সুপারিশগুলো এক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি।

6 views

Related Questions