1 Answers

পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থাই জেন্ডার বৈষম্যের প্রধান কারণ।

জেন্ডার বৈষম্য হলো নারী ও পুরুষের মাঝখানে একটি সামাজিক প্রভেদ। এ প্রভেদের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় যে, সমাজে নারী এবং পুরুষ কে কোন কাজ করবে। মূলত পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থার কারণেই এই পার্থক্যের সূচনা হয়। কার্যত সমাজে পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবের প্রধান্য থাকায় সামাজিকভাবেই নারী ও পুরুষের কাজের মধ্যে একটি সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়। "বন্যেরা বনে সুন্দর, নারীরা গৃহকোণে"- এ ধরনের প্রবাদের সৃষ্টি এ সীমারেখার ভিত্তিতেই। পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবসম্পন্ন মানুষরা মনে করে, নারীরা গৃহস্থালির কাজ করবে আর পুরুষেরা অফিস-আদালতে চাকরি করবে। এ ধরনের মনোভাব থেকেই নারীদের বোঝানো হয় যে, উচ্চশিক্ষা জরুরি নয় বরং ঘর-সংসার করাই তার একমাত্র কাজ। বস্তুত পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে নারীরা প্রায় সব ক্ষেত্রেই অবমূল্যায়িত হয়। যেমন- ঘরের বাইরে অর্থনৈতিক কাজে তাদেরকে নিরুৎসাহিত করা হয়। তার পরেও বাইরে কাজ করলে পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তারা পুরুষের তুলনায় কম মজুরি পায়। শুধু তাই নয়, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে নারীরা সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং নিজ জীবন বা পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয় না। এমনকি অনেক পুরুষ মনে করে, নারী সবক্ষেত্রে তার কথা মেনে চলবে। এর অন্যথা হলেই নারীর ওপর নেমে আসে চরম শারীরিক নির্যাতন।

উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, জেন্ডার বৈষম্যের পিছনে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থাই মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে।

5 views

Related Questions