1 Answers
উদ্দীপকটি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ভাষা আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই শুরু হলেও এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় ১৯৫২ সালে। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দীন জিন্নাহকে অনুকরণ করে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। আব্দুল মতিনকে আহ্বায়ক করে এর আগে গঠিত 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' নতুনভাবে গঠিত হয়। নতুনভাবে আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও যুক্ত হতে থাকে। ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ, মিছিল একমাসের জন্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে, ১০ জন ১০ জন করে মিছিল শুরু করা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে। পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে আবুল বরকত, রফিক ও আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে মারা যান। অবশেষে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ সালে শুরু হলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপ নেয় ১৯৫২ সালে।