1 Answers

উদ্দীপকের ধারাক্রম বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ধারাবাহিক ইতিহাসকে ইঙ্গিত করে।

বাঙালি জীবন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা রেনেসাঁর মতোই তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, দাসত্ব থেকে মুক্তির প্রয়াস। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষাভাষী কতিপয় মানুষের প্রাণ উৎসর্গের মধ্য দিয়ে ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানে বাংলা রাষ্ট্রীয়ভাষার মর্যাদা লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ববাংলায় যুক্তফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। কিন্তু পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বাঙালির এই আধিপত্য মেনে নিতে পারেনি। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলনে জাতীয় জীবনের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি উচ্চারিত হয়।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের পতনের মাধ্যমে যে বিজয় অর্জিত হয়েছিল তা বাঙালি জাতিকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস করে তোলে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। অবশেষে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উদ্দীপকের ধারাক্রমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ইতিহাসকে ইঙ্গিত করে।

6 views

Related Questions