1 Answers

উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের শীত অনুভূত না হওয়ার কারণটি জলবায়ু পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।

মানব সভ্যতার সূচনালগ্নে আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো স্বাভাবিক স্থিতি অবস্থায় ছিল। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যান্ত্রিক সভ্যতার অগ্রগতি ইত্যাদি কারণে এই ভারসাম্যপূর্ণ জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাপক শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ন্যায় প্রযুক্তিনির্ভর কর্মকাণ্ড জলবায়ুর স্বাভাবিক আচরণকে অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবান্বিত করেছে। জলবায়ুর স্বাভাবিক আচরণের এই যে পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে এটাই 'জলবায়ু পরিবর্তন' হিসেবে বিবেচিত হয়। আরো নির্দিষ্ট করে বললে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে। আবহাওয়ার যে পরিবর্তন হচ্ছে তাকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড যেমন- গাছ কেটে ফেলা, কলকারখানা ও যানবাহনের কালো ধোয়া প্রভৃতি কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব আগের তুলনায় বেশি উষ্ণ হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়- সময়ে- অসময়ে অনাবৃষ্টি-অতিবৃষ্টি, ঋতুগুলোর দীর্ঘকালীন বা স্বল্পকালীন স্থায়িত্ব, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা, খরা, ভূমিকম্প প্রভৃতি) সংঘটন ইত্যাদি।

উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, শিক্ষার্থীরা শীতকালে শিক্ষা সফরে গেলেও সাথে গরম পোশাক নেয়নি। কারণ হিসেবে এক ছাত্র বলে যে, এ বছর শীত একেবারেই পড়ে নি বলে তারা গরম পোশাক আনেনি। উক্ত বক্তব্য সমর্থন করে শ্রদ্ধেয় শফিক স্যার এরূপ অবস্থার জন্য বৈশ্বিক উষ্ণতাকে দায়ী করেন, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই ঋতুগুলো তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলছে।

5 views

Related Questions