1 Answers

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে নির্দেশিত ভাষণ তথা ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু এক ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন। পাকিস্তানি শাসকদের আচরণে হতাশ হয়ে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পরদিন থেকেই সারা দেশে স্বাধীনতাকামী মানুষের আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুসারে স্কুল-কলেজ, অফিস- আদালত, কলকারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়। জনগণ সরকারকে খাজনা-ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দেয়। স্পষ্টতই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বলেন, "... প্রত্যেক মহল্লায়, ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলুন। হাতে যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। মনে রাখবেন, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।” এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েই ২৬ মার্চ পরবর্তী সময়ে আপামর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে নিয়মিতভাবে 'বজ্রকণ্ঠ' শিরোনামে ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা হতো, যা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপরিসীম অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। এ ভাষণের মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী লড়াই, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পায় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির আলোকদিশারি স্বরূপ। কার্যত এ ভাষণের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালিরা। অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।

5 views

Related Questions