1 Answers
উদ্দীপকে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তার অবদান অপরিসীম। বাঙালি জাতির নেতৃত্বের প্রধান আসনে যার ভূমিকা ছিল অনন্য তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বুঝেছিলেন, স্বাভাবিক পথে পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না বরং আন্দোলনের মাধ্যমেই তা আদায় করে নিতে হবে। তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে ১৯৭১ সালের ২ ও ৩ মার্চ হরতাল এবং ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভার কর্মসূচি দেন। যথাসময়ে হরতাল কর্মসূচি পালিত হয়। হরতালের সময় পুলিশ গুলি চালালে সাধারণ মানুষ আরও বিক্ষুদ্ধ হয়। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রেরণা পাওয়া যায়। মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের সবুজ সংকেত ছিল এই ভাষণ। অনেকের মতে, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণই হলো স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন চলতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সর্বপ্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার ঘোষণার সাথেই শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থেকেও যার মূল ভূমিকায় ছিলেন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অবশেষে নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পায় তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রেক্ষাপট বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অসামান্য।