1 Answers
উদ্দীপকের উক্ত প্রত্নস্থানটি অর্থাৎ পাহাড়পুর বিহার সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা প্রদানে উল্লিখিত উপাদানসমূহ অসম্পূর্ণ নয়। নির্মাণকাল ও বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা অনুসারে পাহাড়পুর প্রত্নস্থানে প্রাপ্ত ভাস্কর্যসমূহকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- গুপ্তযুগীয় বৈশিষ্ট্যের ভাস্কর্য, অন্তর্বর্তীকালীন বৈশিষ্ট্যের ভাস্কর্য ও স্থানীয় বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ ভাস্কর্য। রাধাকৃষ্ণ, বলরাম, যমুনা ও শিব এবং তার সঙ্গীদের মূর্তি চারটি হচ্ছে গুপ্তযুগীয় বৈশিষ্ট্যের ভাস্কর্য। এ ভাস্কর্যসমূহ খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ-সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করেন।
সুন্দর সৌষ্ঠব সমৃদ্ধ ব্রাহ্মণ্য মতবাদের দেব-দেবীদের ভাস্কর্যসমূহ অন্তর্বতীকালীন বৈশিষ্ট্যের ভাস্কর্যের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো খ্রিষ্টীয় ৭ম-৮ম শতাব্দীতে নির্মিত। পাহাড়পুরের অধিকাংশ ভাস্কর্যই এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ ভাস্কর্যসমূহের মধ্যে রয়েছে অর্জুন বৃক্ষ উৎপাটনরত কৃষ্ণ, ত্রিভঙ্গ, নর্তকী, সুখী দম্পতি ইত্যাদি। এ ভাস্কর্যগুলো বাংলার শিল্পকলার সবচেয়ে সজীব উদাহরণ। সেই সাথে এ ভাস্কর্যগুলোর মাধ্যমে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধর্মীয় অবস্থান এবং যুগ বিভাজন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায়।
অতএব আমরা দৃঢ়তার সাথেই বলতে পারি যে, পাহাড়পুর প্রত্নস্থানটি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা প্রদানে উদ্দীপকের উপাদানসমূহ অসম্পূর্ণ নয়।