1 Answers
জনাব আহনাফ ফিকহশাস্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যার গুরুত্ব অপরিসীম।
ফিকহশাস্ত্র হলো বিশুদ্ধ দলিল-প্রমাণাদি সহকারে মানুষের কর্মসংক্রান্ত ব্যাপারে শরিয়তের হুকুম আহকাম সম্পর্কিত জ্ঞানশাস্ত্র। আহনাফ এ বিষয়ের ইঙ্গিত করেছেন। উদ্দীপকের জনাব আহনাফ ইসলামি আইনবিজ্ঞান বা ফিকহশাস্ত্রের আলোচনা করেছেন, মানবজীবনে যার গুরুত্ব অপরিসীম। ফিকহশাস্ত্র ইসলামি শরিয়তের ব্যাবহারিক দিকের প্রধান ভিত্তি। সর্বসাধারণের জন্য দীনকে সহজবোধ্য করার এ এক অসাধারণ পদ্ধতি। কুরআন ও হাদিসে ইসলামি জীবনব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে সুবিন্যস্ত অবস্থায় নেই। কাজেই জীবনব্যবস্থা সম্বলিত আহকামে শরিয়ত গ্রন্থকারে লিপিবদ্ধ করা না হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে আল্লাহর আইন অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলা সম্ভবপর হবে না। তাছাড়া স্থান-কাল-পাত্রভেদে উদ্ভূত সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন-হাদিসের ঘটনা সমীক্ষা ও পরিবেশ বিশ্লেষণ করে গবেষণালব্ধ জ্ঞানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে ফিকহশাস্ত্র। তাই এর মাধ্যমে সব দেশ ও কালের মুসলিমগণ অত্যন্ত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যে দীনের অনুশীলন করতে পারেন। আবার ফিকহের মাহাত্ম্য, গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। ইমাম বায়হাকি (র) দারে কুতনিতে বর্ণনা করেছেন-
لِكُلِّ شَيْءٍ عِبَادٌ وَعِبَادُ هُذَا الدِّينِ الْفِقْهُ
অর্থ: 'প্রত্যেক বস্তুরই খুঁটি রয়েছে। আর এ দীন ইসলামের খুঁটি হলো ফিকহ'।
পরশেষে বলা যায় যে, ফিকহশাস্ত্রের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।