1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত সচেতনতা জাগ্রতকরণ এবং সামাজিক দায়িত্ব কর্তব্য অনুধাবন ছাড়াও সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের আরও যেসব গুরুত্ব রয়েছে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো-
সমাজবিজ্ঞান সমাজের বাস্তবতা অনুধাবনে সাহায্য করে। তাই এর পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কেননা যে সমাজে আমরা বাস করি, সে সমাজ সম্পর্কে বাস্তব তথা পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণা ছাড়া আমাদের সামাজিক জীবন থাকবে অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ।
সমাজবিজ্ঞান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পদ এবং সুযোগ- সুবিধার বণ্টন সম্পর্কে আমাদেরকে জ্ঞান দান করে। বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে সমাজের উৎপাদন যন্ত্রের সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর সম্পর্ক কী, কে, কতটা উৎপাদনে অবদান রাখছে, কারা, কতটা ভোগ করছে এবং কারাই বা বঞ্চিত হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি।
যেকোনো আর্থ-সামাজিক এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনা প্রণয়নে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে না যদি সে পরিকল্পনা সামাজিক সমস্যার আলোকে প্রণীত না হয়। সমাজ কোন দিকে এবং কোন ধারায় পরিবর্তিত হচ্ছে, ব্যক্তি, শ্রেণি ও জাতি হিসেবে আমাদের কোন পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান আমাদেরকে পথ নির্দেশনা দিতে পারে। সমাজবিজ্ঞান বিশ্বের বিভিন্ন সমাজ ও জাতির মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কেননা সমাজবিজ্ঞান পাঠে আমরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সমাজ, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠী সম্পর্কে জানতে পারি। এতে পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ব্যাপক পরিসরে সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে, যা বিষয়টি অধ্যয়নের গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।