1 Answers

উক্ত বিষয়টির অর্থাৎ কিয়াসের মূল শিক্ষা কুরআন ও হাদিসে রয়েছে। রাসুল (স) কোনো বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত দিলে তা সবাই নির্দ্বিধায় মেনে নিত। তবে তাঁর গৃহীত সব নির্দেশনা ওহিনির্ভর ছিল না। তিনি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি ও গবেষণা দ্বারা সমস্যার সমাধান করতেন। অর্থাৎ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তিনি কিয়াসের আশ্রয় নিতেন। আর কুরআন-হাদিসে এ বিষয়ের মূল শিক্ষা কুরআন ও হাদিস থেকেই পাওয়া যায়।

মহান আল্লাহ আল কুরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে কিয়াসের নির্দেশ দেন। রাসুল (স) ও মুসলিম জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য আল্লাহ তায়ালা ইহুদিদের শাস্তি দিয়েছিলেন। এ শাস্তি শুধু তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল না। পরবর্তীতকালে যে বা যারাই এ কাজে লিপ্ত হবে তাদের জন্যও ঐ একই শাস্তি কার্যকর হবে। কিন্তু আল্লাহ সে কথা কুরআনে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন 'অতএব, হে চাক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো' (সুরা আল হাশর-২)। পরবর্তীতে এ নির্দেশের সূত্র ধরেই মুসলমানগণ এক বিধানের সাথে তুলনা করে নতুন বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করেন। এছাড়া রাসুল (স) নিজে কিয়াস করেন। তাঁর সাহাবি (রা) দেরও তিনি এ বিষয়ে বিশেষ উৎসাহ প্রদান করেন। ইয়েমেন প্রেরণের পূর্বে রাসুল (স) মুয়ায (রা) কে জিজ্ঞেস করেন, তিনি লোকদের মধ্যে কীভাবে ফায়সালা করবেন। মুয়ায (রা) প্রথমে আল্লাহর কিতাব, সেখানে না পেলে হাদিস আর সেখানেও না পেলে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে ফায়সালার কথা জানান। এতে রাসুল (স) সন্তুষ্ট হন।

ওপরের আলোচনায় দেখা যায়, আল কুরআন ও হাদিসের শিক্ষার ভিত্তিতেই কিয়াসের ধারার প্রচলন ঘটে। অর্থাৎ কিয়াসের মূল শিক্ষা কুরআন ও হাদিসে রয়েছে।

6 views

Related Questions