1 Answers
উদ্দীপকে আলোচ্য বিষয়টিতে ইসলামি শরিয়তের উৎস কিয়াসের ইঙ্গিত রয়েছে। মানবজীবনে কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
কিয়াস ইসলামি শরিয়তের অন্যতম উৎস। যেসব সমস্যার সমাধান কুরআন, হাদিস ও ইজমাতে সরাসরি নেই, সেসব সমস্যার সমাধানে কিয়াস হলো শরিয়তের অন্যতম ভিত্তি। মানব জীবনে কিয়াসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মানবজীবন অত্যন্ত গতিশীল এবং পরিবর্তনমুখী প্রতিনিয়ত এখানে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটে। এসব সমস্যার প্রত্যক্ষ ও সরাসরি সমাধান কুরআন হাদিসে না থাকা খুবই স্বাভাবিক। এসব সমস্যার ইসলামি শরিয়াভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনের জন্য কিয়াস বিশেষ জরুরি। কিয়াস আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স)-এর নির্দেশিত ও নির্বাচিত বিষয় হওয়ায়
রাসুল (স) ও তাঁর পরবর্তী যুগের সব মুজতাহিদ একে ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে গ্রহণ করে নেন। তাছাড়া কুরআন মাজিদে মুসলিম জাতিকে আল্লাহ তায়ালা কিয়াস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন- فَاعْتَبِرُوا يَا أُوْلِي الْأَبْصَارِ অর্থ: “হে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন মানুষেরা! তোমরা চিন্তা গবেষণা করো" (সুরা আল হাশর: ২), আবার হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (স) হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা) কে প্রশাসক করে ইয়েমেনে প্রেরণ করেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, কীভাবে তুমি বিচার-ফয়সালা করবে? তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে। রাসুলুল্লাহ (স) বললেন, যদি আল্লাহর কিতাবে না পাও? মুয়াজ (রা) বলেন- আল্লহর রাসুলের (স) সুন্নাহের ভিত্তিতে। রাসুল (স) বলেন যদি সেখানেও না পাও? মুয়াজ (রা) বলেন, তাহলে আমি আমার ব্যক্তিগত গবেষণার আলোকে বিচার ফায়সালা করব। এ বর্ণনা প্রমাণ করে যে, রাসুলুল্লাহ (স) কিয়াস পদ্ধতিতে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান দানের বিষয়টি অত্যন্ত পছন্দ করতেন। বস্তুত এর বাস্তব প্রয়োজন ও বিপুল গুরুত্ব রাসুলুল্লাহ (স)-এর এ পছন্দ থেকেও অনুমিত হয়।
সুতরাং কিয়াস আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (স) নির্দেশিত ও নির্বাচিত বিষয় হওয়ায় মানবজীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।