1 Answers
কুরআন ও হাদিসের পরে শরিয়তের যে উৎস রয়েছে তা হলো ইজমা। ইজমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ইজমা অর্থ-ঐকমত্য, সঙ্গতি, একমত হওয়া। পরিভাষায় সমকালীন আলেমগণ কোনো ধর্মীয় বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করলে তাকে ইজমা বলে। ইজমার গুরুত্ব অপরিসীম।
মানব সমাজ পরিবর্তন ও প্রগতিশীল। ইসলামি সমাজও এ ধারার ব্যতিক্রম নয়। মহানবি (স)-এর সময়ে থেকে এবং পরবর্তীতে ইসলাম ও মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রসারের ফলে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে মুসলিম সমাজ এমন কতগুলো সমস্যার সম্মুখীন হয়, যার সমাধান কুরআন-হাদিসে স্পষ্টভাবে দেয়া হয়নি। বর্তমান যুগ বিজ্ঞান- প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির নতুন নতুন সময়ে আমাদেরকে নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহারের বিধি-বিধান কুরআনে বিদ্যমান। যদিও আমরা তার মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারি না। বস্তুত আল্লাহ কুরআনে কোন কিছুই বাদ রাখেনি। মানব জ্ঞান সসীম হওয়ায় শিক্ষা ও গবেষণায় কুরআন থেকে যাবতীয় সমস্যার সমাধান আহরণ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের মধ্য থেকে একদল বান্দাদেরকে মধ্যমপন্থি জাতি হিসেবে নির্বাচন করেছেন। যারা তার প্রণীত মূলনীতি গবেষণার মাধ্যমে শরিয়ত নির্দেশিত বিধান প্রণয়ন করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন-
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَلطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُوْلُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا
অর্থ: আর এমনিভাবে আমি তোমাদের করেছি মধ্যমপন্থি জাতি, যেন তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসুল (স) হবেন তোমাদের ওপর সাক্ষী' (সুরা বাকারা: ১৪৩)।
পরিশেষে বলা যায় যে, মুসলিম জীবনদর্শন ও ব্যবস্থাপনায় ইজমার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।