1 Answers

কিয়াস বৈধ হওয়ার জন্য উক্ত কারণ অর্থাৎ আছল নির্দিষ্ট না হওয়াকেই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি না।

কিয়াস সম্পাদনের জন্য ইমামগণ কতগুলো শর্তারোপ করেছেন। এ শর্তগুলো পূরণ না হলে কিয়াস গ্রহণযোগ্য হবে না। আছল নির্দিষ্ট না হওয়া এ শর্তগুলোর মধ্যে একটি। এটি ছাড়াও আরও বেশ কিছু শর্ত রয়েছে যা কিয়াসের বৈধতার জন্য আবশ্যক।

কিয়াসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো এর মূল বিধানটি কিয়াসবিরোধী হবে না। কেননা আছল কিয়াসবিরোধী হলে তার ওপর কিয়াস করা যায় না। এছাড়া যে আছলের ওপর কিয়াস করা হবে এবং যে ফরয়াকে কিয়াস করা হবে সে আছল ও ফরয়ার মধ্যে পুরোপুরি মিল থাকতে হবে। আছল ও ফরয়া পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ না হলে কিয়াস বৈধ হবে না। আবার ফরয়ার যদি আলাদা দলিল থাকে তাহলে তার কিয়াস করার প্রয়োজন পড়ে না। তাই যে ফরয়াটির কিয়াস হবে তার জন্য আলাদা কোনো নস বা দলিল থাকতে পারবে না।

কিয়াস সম্পন্ন হওয়ার একটি অনিবার্য শর্ত হলো- যে কারণ ও যুক্তির ভিত্তিতে আছল বা মূলবিধান প্রবর্তিত হয়েছে বলে অনুমান করা হয় ফরয়ার মধ্যে সে একই কারণ ও যুক্তি বিদ্যমান থাকা। কিয়াসের আর একটি বিশেষ শর্ত হলো আসলের হুকুমটি ফরয়ার ওপর প্রয়োগ করা। এগুলো ছাড়া আরও দুটি শর্ত রয়েছে। যার একটি হলো আসলের হুকুম ফরয়ার ওপর প্রয়োগের পর আছলে হুকুমটি অপরিবর্তিত থাকা। অন্যটি হলো- যে বিষয়টির ওপর কিয়াস করা হবে সেটি কোনো আছলের ফরয়া হতে পারবে না। কিয়াসের এ শর্তগুলো পালন না করলে কিয়াস বৈধ হয় না।

পরিশেষে বলা যায়, ইমাম সাহেব যে কারণটির জন্য আফতাবের কিয়াসকে অবৈধ বলেছেন কিয়াসের বৈধতার জন্য সেটির সাথে সাথে এ শর্তগুলোও পূরণ করা প্রয়োজন।

4 views

Related Questions