1 Answers
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি শরিয়তের অন্যতম মূল উৎস 'ইজমা' এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ধর্মীয় বা পার্থিব যেকোনো বিষয়ে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর যুগপরবর্তী যেকোনো সময়ে যোগ্যতাসম্পন্ন মুসলিম মুজতাহিদদের কুরআন সুন্নাহ সমর্থিত এবং সর্বসম্মত ঐকমত্যের নাম হলো- ইজমা। গ্রামবাসীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইজমার বিষয়টি ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, নুরপুর গ্রামের চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে তারা গ্রামের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব করিম উদ্দিন সাহেবের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত নেন যে, তারা গ্রুপ আকারে বিভক্ত হয়ে গ্রাম পাহারা দিবে। এ পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই হলো ইজমা। যা শরিয়তের তৃতীয় উৎস হিসেবে বিবেচিত। ইজমা নতুন কোনো বিষয় নয়। এটি রাসুল (স) এর যুগেও বিদ্যমান ছিল। সমস্যার সমাধানে কুরআন নাজিল হতো বলে সে যুগে ইজমা ব্যাবহারিক দিক দিয়ে তেমন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেনি। অনেকক্ষেত্রে নবি (স) সাহাবিদের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে পরামর্শ করতেন এবং তাদের মতামতের মূল্যায়ন করতেন। যেমন- আজানের প্রচলনে ওমর (রা) এর পরামর্শ, পরিখা খননে সালমান ফারসি (রা) এর পরামর্শ। ইজমার বিধান এবং তার বৈধতা রাসুল (স) এর যুগেই স্বীকৃতি পেয়েছিল। আর নুরপুর গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে এ বিধানের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।