1 Answers

উদ্দীপকের দ্বিতীয় বিষয়টি হলো সামাজিক বনায়ন।

সামাজিক বনায়ন বহুমুখী উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে করা হয়ে থাকে। যেমন- উডলট ও কৃষিবন তৈরির মাধ্যমে কৃষির সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি; জ্বালানি ও নির্মাণ কাঠের সরবরাহ বৃদ্ধি; কুটির ও বৃহৎ শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণ; ভূমিক্ষয় রোধ ও ভূমির উর্বরতা সংরক্ষণ; প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়ন সাধন, গ্রামীণ দারিদ্রতা দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান।

সামাজিক বনায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সামাজিক বনায়নের অবদান অপরিসীম। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ, মরুবিস্তার ও ভূমিক্ষয় রোধের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বাগান তৈরি, পাহারা দেওয়া, রক্ষণাবেক্ষণ, আসবাবপত্র তৈরি, বিক্রয়, নার্সারি স্থাপন ইত্যাদির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশে বনজ সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে বহুগুণে। কৃষি কাজের অনুপযোগী পতিত ও অব্যবহৃত ভূমিতে সামাজিক বনায়ন করা হয় বলে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। তাছাড়া ভূমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ভূমিক্ষয় রোধ হয় বা নিয়ন্ত্রণে থাকে। সামাজিক বন পরিবেশকে ঠান্ডা, নির্মল ও দূষণমুক্ত রাখে। এমনকি আশেপাশের অঞ্চলকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে। এছাড়া বৃক্ষ মরুময়তা রোধ করে, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমায় ও অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। বন প্রাণী খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা করে। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, অণুজীব পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মাধ্যমে  জীববৈচিত্র গতিময় রাখে। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে ও জীববৈচিত্র সংরক্ষিত হয়।

উল্লিখিত আলোচনা থেকে বলা যায়, সামাজিক বনায়ন কর্মকান্ড জীববৈচিত্র  রক্ষায় ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

4 views

Related Questions