1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত জমিরে শেখ একজন প্রান্তিক চাষি। সামান্য ভিটাবাড়ি ছাড়া তার আর কিছু নেই। প্রশিক্ষণ শেষ করে ঋণ নিয়ে তিনি যে উন্নত জাতের ৪টি ছাগলের বাচ্চা ক্রয় করেন সেগুলো হলো উন্নত বা বিদেশি জাতের ছাগল।
বাংলাদেশের আবহাওয়া ছাগল পালনের জন্য বিশেষ উপযোগী। আমাদের দেশের গ্রামে-গঞ্জে প্রায় ৬০% পরিবার ছাগল পালন করে থাকে। ছাগল অনেক কষ্ট সহ্য করতে পারে। প্রচণ্ড খরার মধ্যেও পানি ছাড়া অনেকক্ষণ থাকতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা খাদ্য ঘাটতির সময় অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারে, যা সচরাচর অন্যান্য গৃহপালিত পশু খায় না। ছাগল পালনের জন্য অল্প জায়গা এবং মূলধন বিনিয়োগও কম লাগে। এরা বছরে দুইবার বাচ্চা প্রসব করে এবং প্রতিবারে গড়ে ২-৩টি বাচ্চা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া, মাংস ও দুধের দেশে- বিদেশে বিপুল চাহিদা রয়েছে। ছাগলের দুধ যক্ষ্মা ও হাঁপানি রোগ প্রতিরোধক এবং এজন্য এদের যথেষ্ঠ চাহিদা রয়েছে। ছাগল পালনের জন্য অতিরিক্ত শ্রমিকের দরকার হয় না। এমনকি বাড়ির বাচ্চা ও গৃহিণীরা অনায়াসে ছাগল পালন করতে পারে। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ছাগল পালন করা যায় বিধায় ছাগল ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিদের অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
যেহেতু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছাগলের দুধ ও মাংসের চাহিদা বেশি তাই বাংলাদেশে জমির শেখের উন্নত জাতের ছাগল পালন অত্যন্ত উপযোগী।