1 Answers
উদ্দীপকে পোল্ট্রি শিল্পের কথা বলা হয়েছে।
সুষম খাদ্য সরবরাহ, গ্রামীণ দুঃস্থ লোকদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় অর্থনীতিতে পোল্ট্রি শিল্পের ব্যাপক অবদান রয়েছে। তবে কিছু সমস্যার কারণে বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে-
i. পর্যাপ্ত উন্নত জাতের মুরগির অভাব থাকায় বিদেশ থেকে বাচ্চা আমদানি করে হাঁস-মুরগি পালন করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে।
ii. পোল্ট্রি খামারে মোট উপকরণ ব্যয়ের শতকরা ৬৫-৭০ ভাগ ব্যয় হয় খাদ্য ক্রয় বাবদ। তাছাড়া পোল্ট্রির জন্য তৈরিকৃত সুষম খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণ যেমন- ভুট্টা, সয়াবিন ইত্যাদি বাইরে থেকে আমদানি করতে হয় যেগুলোর গুণগত মান অনেক সময়ই ভালো হয় না।
iii. দেশে পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী কল-কারখানার সংখ্যাও কম, ফলে বাইরে থেকে আমদানি করতে হয় এবং দাম বেশি পড়ে।
iv. দেশে পোল্ট্রির রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় টিকা ও ঔষধের অভাব রয়েছে। বাইরে থেকে আমদানি করেও চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।
V. খামার প্রতিষ্ঠার জন্য' পর্যাপ্ত অর্থের যোগান ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের অভাবে ইচ্ছে থাকলেও অনেকে খামার গড়ে তুলতে পারছেন না।
vi. পোল্ট্রি খামারিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি জ্ঞানের অভাব রয়েছে। শুধু ধারণার উপর ভিত্তি করে হাঁস-মুরগি পালন করায় প্রয়োজনীয় যত্ন ও পরিচর্যার অভাবে প্রচুর হাঁস-মুরগি মারা যাচ্ছে।
vii. দেশে হাঁস-মুরগির ডিম ও মাংসের পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের সুব্যবস্থা নেই। ফলে খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
viii. উন্নত প্রযুক্তি ও কলাকৌশল উদ্ভাবনে গবেষণার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার যথেষ্ট অভাব থাকার কারণে এ খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না।
পোল্ট্রি খামার একটি বিশেষ ধরনের শিল্প। যেকোনো খামার বা শিল্পে বাণিজ্যিকভাবে সফলতা লাভের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। কিন্তু এসব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যাসমূহ পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।