1 Answers

একসময় অনেক ডাক্তাররাই প্রসবের সময় পেরিনিয়াম কাট বা এপিসিওটমি করতেন। এখন প্রয়োজন ছাড়া এপিসিওটমি করা হয় না। সাধারনত যে সব অবস্থায় এপিসিওটমি করা হয়-

  • বাচ্চা আকারে বড় হলে।
  • দ্রুত প্রসবের দরকার হলে।
  • স্বাভাবিকভাবে যদি টিয়ার বেশী হবে বলে অনুমান করা হয়।
  • বাচ্চার অবস্থান যদি অস্বাভাবিক হয়।
  • বাচ্চা ডেলিভারীর সময় যদি বাইরের কোনকিছু যেমন ফোরসেপ, ভ্যাকুয়ামের সাহায্য নিতে হয়।

বাচ্চার যদি কোনও সমস্যা হয় (ফিটাল ডিস্ট্রেস) তবে এপিসিওটমি লাগতে পারে। ফিটাল ডিস্ট্রেস এ বাচ্চার হৃদস্পন্দন অত্যন্ত দ্রুত/ ধীরে যেতে থাকে। এটি নির্দেশ করে যে পেটের ভেতর শিশু যথেষ্ট অক্সিজেন পাচ্ছে না, এবং বাচ্চার স্থায়ী বিকলাঙ্গতা বা এড়াতে বাচ্চাটিকে দ্রুত প্রসব করানো প্রয়োজন।

আগে প্রথম ডেলিভারির সময় সাধারণত নিয়মিতভাবে এপিসিওটমি করা হতো। তখন মনে করা হতো এর ফলে প্রসব তাড়াতাড়ি হয় এবং প্রসবের কারণে আপনাআপনি যোনি ছিঁড়ে যাওয়ার তুলনায় কেটে দেয়া স্থান আরও তাড়াতাড়ি শুকায় ও বিভিন্ন জটিলতা কম হয়।

তবে গত ২০ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে এটা আসলে সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়। এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে এর ফলে বিভিন্ন জটিলতা কমে। তাই বিশেষজ্ঞরা এখন রুটিনমাফিক এপিসিওটমি না করার পক্ষে।

গবেষণায় দেখা গেছে যাদের প্রসবের সময় নিজ থেকেই যোনির স্থান ছিঁড়ে যায় তাদের ক্ষত এপিসিওটমি করা মহিলাদের চাইতে কম সময়ে শুকায় বা একই সময় লাগে। এবং প্রায় সময়ই এদের ক্ষেত্রে এপিসিওটমি করাদের চাইতে কম জটিলতা সৃষ্টি হয়।

এপিসিওটমি করা হলে প্রসবের সময় বেশী রক্তপাত হতে পারে, সেরে ওঠার সময় বেশী ব্যাথা হতে পারে এবং স্বাভাবিক সহবাসের জন্য বেশী সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। এপিসিওটমির কারণে ইনফেকশনের সম্ভাবনাও বেড়ে যায় এবং সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে একবার এপিসিওটমি করলে পরের বার প্রসবের সময় ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।

1946 views