2 Answers

বমি ব্যাপারটা হচ্ছে শরীরের একটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পেট যখন বুঝতে পারে সেখানে হজমের অনুপযোগী কোন বস্তু পাঠানো হয়েছে, তখন তা মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠায় এবং মস্তিষ্ক তখন পাকস্থলী পরিষ্কার করার জন্য আপনাকে বমি করতে বাধ্য করে।

তবে গাড়ি চড়ার ক্ষেত্রে এটা প্রায় পুরোটাই মানসিক সমস্যা। গাড়ির ধোঁয়া বা গন্ধে বা গাড়িতে ওঠার আতংক থেকে মানুষের ব্রেইন মনে করে "পেট মেঁ কুছ কালা হ্যায়ঁ", এবং যা হবার তাই হয়। একটা জিনিস খেয়াল করলে দেখবেন আপনি আতংক বা দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকলে আপনার পেটের মধ্যে গুড়গুড় করে কিংবা গ্যাস হয়। অনেক সময় খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়।

আরেকটা কারণ আছে, সেটা হচ্ছে মোশন সিকনেস। আমাদের শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য কানের মাঝে একটা চুলের মতো একটা অংশ আছে, এটা মস্তিষ্ককে আপনার মাথার দিক সম্পর্কে জানান দেয়। আপনি যদি কোন স্থানে দাঁড়িয়ে ঘুরতে থাকেন তবে থেমে যাবার পর দেখবেন মাথা চক্কর দিচ্ছে। এর কারণ আপনি থেমে গেলেও ওই অংশটি এখনও স্থিতিশীল হয়নি। ঠিক একইভাবে গাড়ি চলার সময় বারবার থামা-চলার জন্য অনেকের মাথা ঘুরে বমি হতে পারে। জেট বিমান চালানো পাইলটদেরকে এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য ঘুরন্ত চেয়ারে বসিয়ে অনেক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। অর্থাৎ নিয়মিত গাড়িতে চলাচল করলে এবং মনোবল ঠিক রাখা গেলে এটা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

যাত্রা পথে বমি থেকে মুক্তি উপায় :

  • নিজস্ব গাড়িতে ভ্রমণ করলে একটানা যাতায়াত না করে কিছুক্ষণ পরপর বিরতি দিয়ে দিয়ে যাত্রা সম্পন্ন করলে মোশন সিকনেস কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিরতির সময়ে কিছুক্ষণ খোলা হাওয়া উপভোগ করে আবার যাত্রা শুরু করতে পারেন।
  • চুইংগাম ও আদা মোশন সিকনেস কমাতে সাহায্য করে। যাত্রাকালীন সময়ে চুইংগাম কিংবা আদা চিবোতে থাকলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • যাত্রার সময় ঘুমানোর অভ্যাস করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যায়। গাড়ির মধ্যে না তাকিয়ে দিগন্তের দিকে তাকালে ভালো। যেদিকে গাড়ি চলছে সেদিক পেছন দিয়ে বসবেন না, এতে বমি ভাব বেশি হয়।
  • কম ঝাঁকুনির সিটে বসাই উত্তম। বাসে ভ্রমণের সময় সামনের সিটে, জানালার ধারে বসলে আলো-বাতাস পাওয়া যাবে বেশি। ফলে শরীরে আরাম পাওয়া যাবে বেশি।
  • ভ্রমণের পূর্বে তেল ও মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। যাত্রার সময় মশলা বা তৈলাক্ত খাবার খেলে বমি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • তেলের গন্ধ যাদের সহ্য হয় না, তারা পছন্দের এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অন্যান্য যাত্রীর অবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
  • যাত্রাকালে পাশের যাত্রীর সাথে কথা না বলা এবং মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এড়িয়ে চলা উচিত। উল্টোমুখী সিটে না বসা এবং যাত্রাকালে বই না পড়াই ভালো।
  • টক জাতীয় ফল খেলেও বমি ভাব দূর হয়। এছাড়া লেবু পাতার গন্ধ, কমলা লেবুর গন্ধেও বমি ভাব দূর হয়। গরম লেবুর পানিতে একটু লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন, মাথাব্যথা, বমি এবং বমিবমি ভাব দূর করতে এই পানি উপকারী। কিন্তু গ্যস্ট্রিকের সমস্যার কারণে বমি হলে লেবু না খাওয়াই ভালো।
  • আদা বমি রোধের জন্য অনেক উপকারী, আদা হজমে সাহায্য করে। আদা কুঁচি চিবুতে পারেন বমি ভাব দূর হয়ে যাবে। প্রয়োজনে আদা চা খেতে পারেন। এছাড়া যখনই বমি ভাব হবে মুখে এক টুকরা লবঙ্গ দিন এতে বমি ভাব চলে যাবে সাথে মুখের দুর্গন্ধ ও চলে যাবে।
  • ভ্রমণের আগে হালকা কিছু খেয়ে বাসে উঠুন। কখনই খালি পেটে ভ্রমণ করবেন না । ভ্রমণের আগে ভারী কিছু খাবেন না। যাত্রাপথে বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, এসিডিটি হয় এমন খাবার না খাওয়াই ভলো।

খুব বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বমি নিরোধক ওষুধ খেতে পারেন।

https://www.medicalnewstoday.com/articles/176198

1691 views

ধন্যবাদ প্রশ্ন করার জন্য, আপনি গাড়িতে উঠার আগে কোণ খাবার খাবেন না | তবে শুকনা খাবার খেতে পারেন | এবং সাথে শুকনা খাবার রাখবেন, পানি রাখবেন| এবং গাড়িতে উঠার আগে pantonix 20mg এবং acliz ট্যাবলেট 1 টা করে খাবেন এবং ঘুমানোর চেষ্টা করবেন গাড়িতে | আসা করি বমি আসবে না | বিস্ময়ের সাহেই থাকুন|

1691 views

Related Questions

হেবা কিঃ?
1 Answers 6830 Views