2 Answers

ভুলবশত কিংবা অন্য কোনো বিশেষ কারণে কোনো ওয়াক্তের নামায আদায় করতে না পারলে এই নামায পরবর্তীতে আদায় করাকে কাযা নামায বলা হয়।

ফরজ কিংবা ওয়াজিব নামাজ ছুটে গেলে তার কাযা আদায় করা আবশ্যক। সুন্নত কিংবা নফল নামাযের কাযা আদায় করতে হয় না।

কাযা নামায পড়ার সঠিক নিয়ম হচ্ছেঃ আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি নামায আদায়ের কথা ভুলে যায় সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায করে। কাযা নামাযের কাফফারা হলো তা আদায় করা।

ঘুমের কারণে নামায কাযা হলে অন্যায় নয়, বরং জগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে নামায এত বিলম্বে আদায় করা অন্যায় যাতে অন্য ওয়াক্ত উপনীত হয়।

(সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত হাদিস নম্বরঃ ৪৪১, ৪৪২ হাদিসের মানঃ সহিহ)।

কারো যদি দিনের একাধিক সালাত কাযা হয়ে যায় তবে তার বিধান হচ্ছেঃ

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, মুশরিকরা খন্দক যুদ্ধের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চার ওয়াক্ত সালাত আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এমনকি রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে যায় কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতে পারলেন না। পরে তিনি বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু কে আযান দিতে বললেন। বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহ আযান দিয়ে ইকামত দিলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের সালাত আদায় করলেন।

পরে আবার তিনি ইকামত দিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত আদায় করলেন।

পরে তিনি আবার ইকামত দিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাত আদায় করলেন এরপর তিনি পুনরায় ইকামত দিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায় করলেন।

(সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/ সালাত, হাদিস নম্বরঃ ১৭৯ হাদিসের মানঃ হাসান)।

কাযা সালাতের বিষয়ে আলিমগণ এই মতটই গ্রহণ করেছেন যে, কাযার সময় প্রতেক সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া যায়। ইকামত না দিলেও তা হয়ে যাবে। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এর অভিমতও এই।

কারো যদি মাস বা বছরের একাধিক সালাত কাযা হয়ে যায় তবে তার বিধান হচ্ছেঃ

কাযা নামায আদায় করার সময় এ নিয়ত করতে হবে আমি অমুক দিনের অমুক ওয়াক্তের নামায কাযা আদায় করছি। আর যদি দিন-তারিখ মনে না থাকে, এমতাবস্থায় এভাবে নিয়ত করতে হবে আমি আমার জীবনের সর্বপ্রথম জোহর নামাযের কাযা আদায় করছি।

এভাবে প্রত্যেক ওয়াক্ত কাযা নামায আদায় করার সময় নিয়ত করতে হবে। আর ততদিন পর্যন্ত কাযা নামায আদায় করতে থাকবে, যতক্ষণ না ওই ব্যক্তির মন এ সাক্ষ্য দেবে যে, তার জিম্মায় কোনো নামায কাযা নেই।

কাজা নামায আদায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো প্রত্যেক নামাযের সময় একাধিক ওয়াক্তের কাযা আদায় করে নেয়া।

অতএবঃ জীবনে যে নামায পড়ে নাই বা কত ওয়াক্ত নামায কাযা হয়েছে তার হিসাবও নাই। সে ব্যক্তি যদি এখন সব নামাযের কাযা আদায় করতে চায়; তবে সে ব্যক্তি প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাযের সঙ্গে সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাযের কাযা আদায় করতে থাকবে। এভাবে নামায আদায়কে ‘ওমরি কাযা’ বলে।


1712 views Answered

যে কোন জরুরী কারণে সময়মত নামাজ পড়তে না পারিলে ঐ নামাজ অন্য নামাযের পূর্বে আদায় করাকে কাযা নামাজ বলে। কাযা নামাজ দুই প্রকার যথা -

  • ১। ‘ফাওয়ায়েতে কালীল’ অর্থাৎ অল্প কাযা পাঁচ ওয়াক্ত পরিমাণ নামাজ কাযা হইলে উহাকেই ‘ফাওয়ায়েতে কালীল’ বা অল্প কাজা বলে।
  • ২। ‘ফাওয়ায়েতে কাছির’ অর্থাৎ বেশি কাযা। পাঁচ ওয়াক্তের অধিক যত দিনের নামাজই কাযা হউক না কেন উহাকে ‘ফাওয়ায়েতে কাছির’ বা অধিক কাযা বলা হয়। এ ধরনের কাযা নামাজ সকল ওয়াক্তিয়া নামাযের পূর্বে পড়িবে। কিন্তু,  
  • (ক) কাযার কথা ভুলিয়া গেলে অথবা  
  • (খ) ওয়াক্তিয়া নামাযের ওয়াকত সস্কীর্ণ হইয়া গেলে বা (গ) কাযা পাঁচ ওয়াক্তের বেশী হইলে কাযা নামাজ পরে পড়া যাইতে পারে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা তার কম নামাজ না পড়িয়া থাকিলে তাহার তরতীবের প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে। আগের নামাজ আগে, পরের নামাজ পরে পড়িতে হইবে। যথঃ কোন ব্যক্তির ফরজ এবং যোহরের নামাজ তরক হইয়া গিয়াছে; এখন আছরের নামাজ পড়িবার পূর্বে সর্ব প্রথম ফজরের কাযা তারপর যোহরের কাযা আদায় করিতে হইবে। তারপর আছরের ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করিবে।
  • ১) ফরয নামাজের কাযা ফরয।
  • ২) ওয়াজিব নামাজের কাযা ওয়াজিব।
  • ৩) সুন্নত নামাযের কাযা পড়িতে হয় না। কিন্তু ফজরের সুন্নতের কাযা আদায় করিতে হইব।
  • ৪) কাযা নামাজ জামায়াতের সহিত আদায় করিলে ইমাম কেরাত জোরে পড়িবেন। তবে যোহর এবং আছরে চুপে চুপে পড়িবেন।
  • ৫) এক মাস বা তার চেয়ে বেশী দিনের নামাজ কাযা হইয়া থাকিলে উক্ত পরিমাণ সময়ের কাযা আদায় করিবে এবং তরতীবের প্রতি লক্ষ্য রাখিবে।
  • ৬) জীবনে যে নামাজ পড়ে নাই বা কত নামাজ তরক করিয়াছে তাহার হিসাবও নাই। সে যদি এখন কাযা করিতে চায়, তবে প্রথমে নামাজের পূর্বে তরতীব অনুযায়ী কাযা আদায় করিতে থাকিবে, ইহাকে ‘ওমরী কাযা’ বলে। ইহাতে অশেষ ছওয়াব আছে। কাযা নামাজের নিয়ত করিবার সময় নামাজের উল্লেখ করিয়া নিয়ত করিতে হইবে।

কাযা নামায আদায়ের নিয়ত করবেন যেভাবে (বাংলায়)  আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ------- ফরজ দুই রাকাত কাযা নামাজ আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

1712 views Answered

Next steps